শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে আদ্-দ্বীন  কর্মীর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নলদী শাখার মাঠকর্মী (এফএইচডি) দিতি খানমের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রাহকের মধ্যে তাঁদের কেউ বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন, কেউ ভ্যানচালকের স্ত্রী, কেউ গৃহিণী, দিনমজুর এবং চায়ের দোকানদার।

 

 

রুবিয়া খানম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, আমি ৬০ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী কিস্তিও দিয়েছি। কিন্তু, কিস্তি পরিশোধের বই মাঠকর্মী দিতি খানম কখনও আমাকে দেয়নি। কিস্তি পরিশোধের বই দিতি নিজের কাছে রেখেছে। আমার এই বই থেকে দিতি আরো একটি লোন উঠিয়ে নিয়েছে। সেই লোন সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। এখন শুনতেছি আমার বইয়ে আরো ২২ হাজার টাকা লোন আছে। এছাড়াও আমি কিস্তিতে যে টাকা জমা দিয়েছি, সে টাকাও কিস্তি পরিশোধ বইয়ে ঠিক মত উঠায় নি। বিষয়টি জানাজানি হলে আমাকে একটি বই দিয়েছে। বইটিতে যে ছবি আছে সেটি আমাদের না।

 

 

ওই মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরণের আরো অভিযোগ করেন, লোন গ্রহীতা বিউটি বেগম, জনতা বেগম, নূরজাহান, পাখী বেগম, ময়না বেগমসহ অনেকেই লোন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। আবার কেউ লোন চেয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের লোন না দিয়ে তাঁদের ছবি, ভোটার আইডিকার্ড ব্যবহার করে লোন উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।

 

এ ঘটনায় শাখাটির মাঠকর্মী (এফএইচডি) হিসেবে কমর্রত অবস্থায় প্রায় ছত্রিশ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দিতি খানমের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে আল-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার। সংস্থাটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মেঃ শহিদুল ইসলামের পক্ষে এ্যাডভোকেট মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী গত ২১ আগস্ট এ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে বলা হয়, অভিযুক্ত দিতি খানম মাঠকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নকল কাগজপত্র সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ (লোন) উত্তোলন করেন।

একই সঙ্গে সদস্যদের নিকট থেকে সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। এতে মোট ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৪ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক ও এরিয়া ব্যবস্থাপক একাধিকবার মৌখিকভাবে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য দিতি খানমকে অনুরোধ করলেও তিনি তা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। নোটিশে অভিযুক্তকে সাত দিনের মধ্যে আত্মসাতকৃত টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

 

 

প্রেরিত নোটিশে যে ৩৬ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করে অভিযুক্ত মাঠকর্মী দিতি খানম বলেন, মাঠকর্মীর কাজ কেবল ঋণ ও সঞ্চয় আদায় করে অফিসে জমা দেওয়া পর্যন্ত সীমিত। নতুন সদস্য অনুমোদন, ঋণ যাচাই ও বিতরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব শাখা ব্যবস্থাপক, সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক ও এরিয়া ম্যানেজারের।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে দায়িত্বরত হিসাবরক্ষক উম্মে হাবিবা, এরিয়া ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ ও শাখা ব্যবস্থাপক এ এইচ এম কামাল যোগসাজশে নকল সদস্য বানিয়ে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে মাঠকর্মী দিতি খানম শ্লকর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পরবর্তীতে তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়।

 

 

এ ব্যাপারে আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের লোহাগড়া উপজেলার নলদী শাখার এরিয়া ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ বলেন, দিতি খানমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এটি সঠিক। তিনি বলছেন সদস্যরা আসেনি এটা হতে পারে না। সদস্যরা এসেছেন। তবে বডি চেঞ্জ হয়েছে। তাঁদেরকে মিথ্যা কথা বলে সাজিয়ে এনেছে। কারো কারো আইডি কার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। কোথাও ছবি চেঞ্জ করা হয়েছে। এ সবই মাঠকর্মী দিতি করেছেন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ