মোল্লা গিয়াস উদ্দিন বাগেরহাট:বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা কর্মসুচির অংশ হিসেবে ফকিরহাট উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। এসময় নির্বাচন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় হরতাল সমর্থনকারীরা। এছাড়াও ঐদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের সকল দোকান-পাট বন্ধ দেখা গেছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হরতাল সমর্থনকারীরা ফকিরহাট উপজেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ কর্মসূচিতে বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহন করেন।
দুপুর ১২টায় কাটাখালী বাসস্ট্যান্ডে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আয়োজনে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষন করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, সদস্য সচিব মোজাফ্ফার রহমান আলম, বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এ্যাডঃ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ,সরদার অহিদুল ইসলাম পল্টু,জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম, জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারী মাওলানা ইউনুস আলী জেলা, ফকিরহাট উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরা, ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন , সৈয়দ ওবাইদুল ইসলাম জুয়েল,সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক, জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল হক রাহাদ,ফকিরহাট বিএনপির সাধারন সম্পাদক শেখ শরিফুল কামাল কারিম, রামপাল উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, মোল্লাহাট উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাফিজুর রহমান ও ফকিরহাট উপজেলা এনসিপি’র সমন্বয়ক মোঃ মিজানুর রহমান সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
এদিন সকাল থেকে ফকিরহাট সড়ক মহাসড়কে দূরপাল্লার কোনো পরিবহন যাতায়াত করতে দেখা যায়নি। সকাল থেকে ফকিরহাট বিশ্বরোড় মোড়, কাটাখালী চত্ত্বর সহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে গ্রাম অঞ্চল দিয়ে সীমিত আকারে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে। হরতালের কারণে উপজেলার সকল দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। জরুরী প্রয়োজনে কিছু ফার্মেসীর দোকান খোলা দেখা গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিকে হরতাল সমর্থনে এবং চারটি আসন বহাল রাখার দাবীতে মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে ক্ষন্ডক্ষন্ড বিক্ষোভ মিছিল করে হরতাল সমর্থনকারীরা। টায়ার চালিয়ে ও কাঠের গুড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে রাখে। এসময় এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী পরিবহনগুলো ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে উপজেলার সর্বত্র হরতাল পালিত হয়েছে।

