গত ২৬ মে উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজার থেকে ধান কাটার জন্য কৃষাণ হিসেবে নকিম উদ্দীনসহ তিনজনকে বাড়িতে নিয়ে যান পাইকপাড়া গ্রামের মৃত ইবাদ মোল্যার ছেলে বেনজির আহম্মেদ (৪২)। এর মধ্যে গত রবিবার (২৯ মে) বিকালে পারিশ্রমিকের টাকা বুঝে নিয়ে একজন চলে যায়। বাকি আটক লিটন মালিতা ও নিহত নকিম উদ্দীন রাতে খাবার খেয়ে এক কক্ষে ঘুমিয়ে থাকে। পরে বাড়ির মালিক বেনজির আহম্মেদ সোমবার সকাল ৬টায় কৃষাণদের ডাক দিলে বাইরে থেকে দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা দেখে তিনি ভেতরে যেয়ে দেখেন জখম অবস্থায় কৃষাণ নকিম উদ্দীনের লাশ খাটের উপর পড়ে আছে।
হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
কবিরাজের কথামতো নকিমকে হত্যা, দুইজনকে আটক: হারানো যৌবন ফিরে পেতেই খুন কর। কবিরাজ বারিকের কথামতো সে তাকে হত্যা করে একটি পুরুষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় কবিরাজ আব্দুল বারেকের শরণাপন্ন হয় লিটন। কবিরাজ লিটনকে যে কোনো একটি পুরুষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ উপড়ে নিয়ে আসলে সে হারানো যৌবন ফিরে পাবে বলে জানান। সেই থেকে লিটন বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ধান কাটার শ্রমিক সেজে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কাজ নেয়। সুযোগ বুঝে কবিরাজের দেয়া মহাওষুধের উপকরণ যোগাড় করতে নকিম উদ্দীন নামের এই শ্রমিককে খুন করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে চলে যায় মানিকগঞ্জ।
আজ সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলণে এই তথ্য জানানো হয়, হারানো যৌবন ফিরে পেতে কবিরাজের নির্দেশে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যম ব্যবহার করে মঙ্গলবার ও বুধবার অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশ। এ সময় আটক লিটন মালিতার কাছ থেকে খুন হওয়া ব্যক্তির পুরষাঙ্গ, অন্ডকোষ ও একটি চোখ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক আব্দুল বারেক চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে। সে পেশায় কবিরাজ। আটক অপর ব্যক্তি লিটন মালিতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মোহাম্মদ জুমা গ্রামের মো: হানিফ মালিতার ছেলে। আটক লিটন মালিতা দীর্ঘদিন যাবত যৌনরোগে ভূগছিলেন।
উল্লেখ্য,গত সোমবার দিবাগত রাতে যশোরের বাঘারপাড়ায় উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে কৃষি শ্রমিক নকিম উদ্দীন হত্যা হয় । ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে লাশ ও আলামত হিসেবে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। নিহত নকিম উদ্দীন বাঘারপাড়া উপজেলার ধুপখালী গ্রামের মৃত দলিলুদ্দিন মোল্যার ছেলে।
ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে বাঘারপাড়া থানায় ৩১ মে মঙ্গলবার একটি মামলা হয়। যার নম্বর ১৮/ ধারা ৩০২ ও ২০১/ ৩৪ দণ্ডবিধি। আলোচিত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে মাঠে নামে যশোর ডিবি।

