শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

চুয়াডাঙ্গার মক্কা মটরস: মালিকের বিরুদ্ধে স্ট্যাম্প জালকরাসহ নানা অভিযোগ

আরো খবর

‎ বিশেষ প্রতিনিধি:
‎চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে পুরাতন মোটরসাইকেল শোরুম মক্কা মটরস মালিক মোঃ আব্দুর রহমান লাইসেন্সের নাম গোপন করে স্ট্যাম্প করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎গত ১ সেপ্টেম্বর মক্কা মটরস শোরুম থেকে সুবর্ণা ইসলাম পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম গ্রাম হাসানহাটী উপজেলা কালিগঞ্জ জেলা ঝিনাইদহ। একই জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর গ্রামে সুবর্ণার  মামা গোলাম রসুল চুয়াডাঙ্গা মক্কা মটরস পুরাতন শোরুম যায় তার জন্য একটি স্কুটি পুরাতন মোটরসাইকেল কিনতে।

 

‎৪৭ হাজার ৫শত টাকা দিয়ে ঢাকা মেট্রো- হ- ৭১-২৩৮০ লাইসেন্স করা স্কুটি পুরাতন মোটরসাইকেল কেনেন।যার লাইসেন্স ধারী মালিকের নাম আমিনুর রশীদ চৌধুরী পিতা মেহেদী মাসুদ চৌধুরী সাং প্লট-৩৮ রোড নম্বর ১৯ ব্লক ডি সেক্টর ০৬ থানা ঢাকা জেলা ঢাকা।

‎মক্কা মটরস পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়ের স্ট্যাম্প করে দেওয়ার কথা বলে মালিক আব্দুর রহমান ৬শত টাকা নেন গোলাম রসুলের নিকট থেকে।

 

 

‎ঢাকা থেকে মুল মালিকের স্ট্যাম্প করে আনতে হবে বলে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নেন। সেই দিন স্ট্যাম্প আনতে গেলে বলে ঢাকা থেকে আসেনি। আজ বুধবার স্ট্যাম্প আনতে গেলে তিনি স্ট্যাম্প দেন তার শোরুমের খামে ভরে।খালিশপুর এসে তার নিকট জানতে চাওয়া হয় এটা তো ঢাকা কোর্টের স্ট্যাম্প না। এটা তো চুয়াডাঙ্গা কোর্ট থেকে করা। মালিকের স্বাক্ষর কি এটা সঠিক। মালিকের এনআইডি দেখে স্ট্যাম্প করা হয়েছে এটা। মালিকের নাম আমিনুর রশীদ চৌধুরী স্ট্যাম্পে লেখা আমিনুল রশিদ চৌধুরী পিতা মেহেদী মাসুদ চৌধুরী স্ট্যাম্পে লেখা মেহেদী হাসান চৌধুরী। এই কথা বলার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন কি হবে স্ট্যাম্প দিয়ে।


তিনি ‎সরকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়েতে চালিয়ে যাচ্ছেন পুরাতন মোটরসাইকেলের রমরমা ব্যবসা।

 

‎বিভিন্ন সুত্রে জানাযায় খুলনা থেকে চলে এসে চুয়াডাঙ্গা ফার্মপাড়া বিয়ে করে এখানেই বসবাস করতে থাকেন তিনি। নীজ বাসস্থান খুলনা ছেড়ে কেন কি কারণে এখানে আসলেন তা নিয়ে রয়েছে  প্রশ্ন।

সূত্র জানায়, ‎এখানে এসে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে শুরু করেন আরবি পড়ানো দিয়ে ।এরপর দু,একটা পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করে বিক্রি শুরু করেন। কয়েক বছরের মধ্যে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মত বনে যান কোটিপতি।  চলেন বিলাসবহুল প্রাইভেটকার গাড়িতে।

 

 

‎বিজিবি হাসপাতাল,হাই স্কুল প্রাইমারির সামনে। পদ্মবিলা ইউনিয়ন এর এরিয়ায়। ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেডলাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, বিআরটির অনুমোদন ছাড়াই পুরাতন মোটরসাইকেল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে এসে করছেন ক্রয় বিক্রয়।পুরাতন গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে লাগানো হয়। মেরামতের সময়  যেমন শব্দ দূষণ তেমনি অতি দ্রুত পিকআপ দেওয়ায় পেট্রোল পুড়ে হয় বায়ু দূষণ।

 

 

‎পদ্মবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মহাসিন আলী জানান মক্কা মটরস পুরাতন মোটরসাইকেল শোরুম মালিক কোন ট্রেডলাইসেন্স নেননি ইউনিয়ন থেকে।

 

 

‎ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর খালিদুজ্জামান জানান, মক্কা মটরস এর মালিককে বারবার জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিস এর লাইসেন্স করার জন্য কিন্তু তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।আমরা আবার নোটিশ করবো।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ,র নিকট জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

‎এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এর নিকট জানানো হলে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।


‎মক্কা মটরস শোরুম মালিক  আব্দুর রহমানের রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার রহস্য ও খুটির জোর কোথায় জনমনে এটাই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ