শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শ্যামনগরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

আরো খবর

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের ২৩ নম্বর মানিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা পারভীনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শত শত অভিভাবকের স্বাক্ষরিত অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

 

এর আগে ২৩ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরিত অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সরকারি অনলাইন অভিযোগ সেবা ও প্রতিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এমনকি এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৭ সাল থেকে টানা ১৮ বছর একই বিদ্যালয়ে কর্মরত থেকে খাদিজা পারভীন স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছেন। সহকারী শিক্ষক, কেরানি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি অশোভন আচরণ করেন এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। হিন্দু সহকর্মীদের ধর্মীয় পরিচয় টেনে অপমান করার অভিযোগও তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

 

অভিভাবকদের অভিযোগ, এক শিক্ষার্থীর পা ভাঙার ঘটনায় অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রধান শিক্ষিকা ওই শিক্ষার্থীকে টিসি নিয়ে অন্যত্র ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। আবার সহকারী শিক্ষিকা হাত ধোয়ার সময় পানির ট্যাপ ভেঙে ফেললে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের সামনেই তিনি ভাংচুর করেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চ বিক্রি করে আত্মসাৎ, পাঠদানে অনীহা, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত যতœ না নেওয়া এবং দায়িত্বহীন মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে খাদিজা পারভীনের বিরুদ্ধে। অভিভাবকদের দাবি—এমন কর্মকা- কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

 

৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রান্তি ম-ল ও ঈশিতা রানীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, স্কুল প্রাঙ্গণে প্রতিনিয়ত অশ্লীল ভাষা ও ভাঙচুর চললেও একাধিক তদন্তের পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা কবিরের অভিভাবক হুমায়ুন কবির জানান, রোল নম্বর তিন থাকা সত্ত্বেও তার মেয়েকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

 

 

অভিভাবকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খাদিজা পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জনের মতো কর্মসূচি পালন করবেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, খাদিজা পারভীনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ