শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সংকট মোচনে ইস্তিগফারের অমোঘ শক্তি

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক: ব্যক্তি, পরিবার বা সামাজিক জীবনে মানুষ বহু ধরনের পেরেশানিতে ভুগছে। কারো চাকরি নেই, কারো ব্যবসার মূলধন নেই। রিজিকের অভাবে উদ্বিগ্নতা, দুঃখ-দুঃশ্চিন্তা, পারিবারিক সমস্যা। এগুলো প্রতিদিনের জীবনকে অসহ্য করে তোলে।

কেউ সন্তানের জন্য প্রার্থনা করছেন, কেউ বিবাহ বা পার্থিব জীবনের সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করছেন। তার পরও সমস্যার সমাধান মিলছে না।

এই সব সমস্যা দূর করা সহজ, কিন্তু কার্যকর পথ হলো ইস্তিগফারের আমল। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
ইসলামে এটি কেবল পাপমুক্তির জন্য নয়, বরং জীবনের সব সংকট এবং রিজিক বৃদ্ধির একটি প্রমাণিত মাধ্যম।

ইস্তিগফারের গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا

‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার করো। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বর্ষা বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।
তোমাদের জন্য উদ্যান তৈরি করবেন এবং নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নূহ ১০–১২)

এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে দেখায়, ইস্তিগফার শুধু পাপের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার একটি সরাসরি মাধ্যম।

হাসান আল বসরী রাহিমাহুল্লাহর শিক্ষা

একবার বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান আল বসরী (রহ.) এর কাছে এক ব্যক্তি জানালেন, ‘আমার ফসল খরাপ হয়েছে, আমাকে কোনো আমল বলুন।’ হাসান বসরী (রহ.) বললেন: “ইস্তিগফার করো।”

পরের একজন বললেন, “আমি গরিব, আমাকে রিজিকের আমল দিন।
” উত্তরে আবারও তিনি বললেন : “ইস্তিগফার করো।”

অপর এক ব্যক্তি সন্তান প্রসঙ্গে দোয়া চাইলেন, তিনি একই উত্তর দিলেন : “ইস্তিগফার করো।”

উপস্থিত ছাত্ররা বিস্ময়ে প্রশ্ন করল, “সবাইকে এক পরামর্শই কেন?”

 

হাসান বসরী (রহ.) উত্তর দিলেন, ‘আমি নিজে কিছু বলিনি, এটি আল্লাহ তায়ালার কোরআনেই নির্দেশিত।’ এরপর তিনি সুরা নূহের উক্ত আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৩০৩)

ইস্তিগফারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

দোয়া ১:

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ

অনুবাদ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আমল: প্রতি ফরজ নামাজের পর রাসুল (সা.) তিনবার পড়তেন। (মিশকাত, হাদিস : ৯৬১)

দোয়া ২:

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি

অনুবাদ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে ফিরে যাচ্ছি।

আমল: রাসুল (সা.) প্রতিদিন ৭০ বার পড়তেন। (বুখারি, হাদিস: ৬৩০৭)

দোয়া ৩:

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

উচ্চারণ: রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব‘আলাইয়া, ইন্নাকা আনতা তাওয়াবুর রাহীম

অনুবাদ: হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা কর এবং আমার তাওবা কবুল কর। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী ও করুণাময়।

আমল: : রাসুল (সা.) এক বৈঠকে ১০০ বার পড়েছেন। (আবূ দাউদ, হাদিস : ১৫১৬; ইবনে মাজাহ হাদিস : ৩৮১৪)

দোয়া ৪:

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম, ওয়া আতূবু ইলাইহি

অনুবাদ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, এবং তাঁর কাছে তাওবা করি। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৭; তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৭৭)

ইস্তিগফার কেবল ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়; এটি জীবনের সব সংকট দূর করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। চাকরি, ব্যবসা, সন্তান, বিবাহ বা দৈনন্দিন দুঃখ। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে মন শান্ত হয়, হৃদয় শক্ত হয়, এবং রিযিক প্রসারিত হয়। হাসান আল বসরীর (রহ.) উদাহরণ প্রমাণ করে, ইস্তিগফারের আমল জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্যের পথ খুলে দেয়।

সুতরাং, চলতে, বসতে, ঘুরতে; সবসময় ইস্তিগফারের আমল জারি রাখা মুমিন ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত উপকারি আমল । এটি শুধু দোয়া নয়, বরং আপনার জীবনের প্রতিটি সংকট মোকাবিলার এক প্রাকৃতিক উপায়, যা আল্লাহর নির্দেশিত। সূত্র: কালের কন্ঠ

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ