বিশেষ প্রতিনিধি: এবার দুদকের জালে ধরা পড়লেন বেনাপোলের আলোচিত সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী নেতা শামসুর রহমান। তালিকায় রয়েছে এক ডর্জন রাঘব বোয়াল। যারা বিগত সময়ে সরকারের বিপুল অংকের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
মঙ্গলবার দুদকের তালিকায় বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমানের নাম প্রকাশ হওয়ার পর ব্যবসায়ী মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। তার(শামসুর রহমান) বিরুদ্ধে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।
দুদকের-অনুসন্ধানে দেখা যায়, শামসুর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মোট ৩১ কোটি ২৮ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ২২২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি ২০ লাখ ৪২ হাজার ২২৭ টাকা।
কিন্তু অনুসন্ধান শেষে তার নামে স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৯ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় ৫৮ কোটি ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৭ টাকা। সর্বমোট তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৬ টাকা। এছাড়া, পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪৪ টাকা। সব মিলিয়ে শামসুর রহমানের নিট সম্পদ পাওয়া যায় প্রায় ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩০ টাকা।
অন্যদিকে, যাচাইকালে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ৪১ কোটি ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৪৩৩ টাকা। ফলে বৈধ আয়ের তুলনায় তার নামে অতিরিক্ত ৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া যায়।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, শামসুর রহমান তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এব্যাপারে শামসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ”ফর দ্যা নাথিং”, বিস্তারিত পরে জানাবো। পরে ফোন করে জানান তিনি দীর্ঘ দিন অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। বিশেষ একটি মহল ব্যবসায়ীক স্বার্থগত কারণে এসব করাতে পারে।
অপর একটি সূত্র জানায়, শুধু শামসুর রহমান নয় তালিকায় রয়েছে এক ডজন রাঘব বোয়াল। যাদের নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

