মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন রঙে রাঙিয়ে ওঠে।কাশফুলের সাদা দোল আর ভোরবেলার শিশির ভেজা শিউলির মিষ্টি গন্ধ শরতের পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে শিউলি ফুল—যেন শরতের এক অনন্য প্রতীক। ভোরের আলো ফোটার আগে শিউলি গাছের নিচে ছড়িয়ে থাকা ঝরাপাতা সাদা-কমলা রঙের ছোট ছোট ফুল প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে অপার সৌন্দর্যে।মাগুরার মহম্মদপুরে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে।
লোকসংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গেও শিউলি ফুলের এক গভীর যোগ রয়েছে।দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে পূজার থালায় শিউলি অপরিহার্য। ভোরে গাছতলা থেকে ঝরা ফুল কুড়ানোর আনন্দ এখনো গ্রামীণ জীবনের এক চিরচেনা দৃশ্য। শহুরে জীবনে আজও শিউলি ভোরের আড্ডার, নীরব হাঁটার কিংবা স্মৃতির অনুষঙ্গ হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিউলি শুধু সৌন্দর্যের ফুল নয়, এর রয়েছে ভেষজ গুণও। আয়ুর্বেদে শিউলি পাতার রস জ্বর ও বাতের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
শরতের হাওয়া বইলেই বাংলার গ্রামীণ কিংবা শহুরে আঙিনায় শিউলির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। ছোট্ট, সাদা-কমলা রঙের এই ফুল মানুষের মন জয় করেছে বহুদিন আগে, আর এখনো একইভাবে করে যাচ্ছে।
শিউলি তাই শুধু এক টুকরো ফুল নয়—এ যেন বাংলার শরতের আত্মার রঙ,ভোরবেলার নিঃশব্দ কবিতা।

