শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোল কাস্টমসে দুদকের অভিযান ঘুষের টাকাসহ এনজিও কর্মী গ্রেফতার

আরো খবর

সুমন হোসাইন:
যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দুদকের অভিযান এবং পরবর্তী ঘটনা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গতকাল ঘুষ লেন-দেনের অভিযোগে শুল্কায়ন গ্রুপ-৬ এর রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার ব্যাক্তিগত এনজিও কর্মী হাসিবকে আটক করে দুদকের অভিযানিক দল।

কাস্টমস হাউসের মধ্যে প্রায় ৪ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজস্ব কর্মকর্তাকে মুক্তি দিয়ে হাসিবকে আটক করে দুদক। বিকেল ৪টার দিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানটি পরিচালনা করেন উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দীন আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুদকের দল বেনাপোল কাস্টমস হাউসের শুল্কায়ন গ্রুপ-৬ এর কক্ষে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। এসময় ঘুষ লেনদেনের টাকা উদ্ধার করেন তারা।

বিকাল ৪ টা থেকে ওই শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তার ও এনজিও কর্মী হাসিবকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। কিন্তু রাত ৮ টা গড়ালেও দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় না। জিজ্ঞসাবাদের সময় স্থানীয় সাংবাদিক ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে তারা রুম লক করে রাখেন। এসময় সেখানে সাংবাদিকসহ উৎসুখ জনতার ভীড় জমে। এক পর্যায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে হাসিবকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করে অভিযানিক দলটি যশোরে চলে আসে। তবে তারা স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের অভিযানের বিষয়ে কোন ব্রিফিং করেননি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।

দুদকের উপপরিচালক সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল কাস্টমস হাউসে ঘুষ বাণিজ্য চলছে এবং মোটা অংকের টাকা লেনদেন হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান চালাই। আমরা কাস্টমস গেটে টাকাসহ এনজিওকর্মী হাসিবুর রহমানকে আটক করি। টাকা কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ টাকা রাজস্ব কর্মকর্তা শামিমা আক্তার ম্যাডামের। পরে কাস্টমস হাউসে সুপার শামিমার কাছে গেলে সে তার টাকা বলে শিকার করে। এরপর কাস্টমস কমিশনারসহ অন্যান্য অফিসারদের সাথে বৈঠক শেষে এনজিওকর্মী হাসিবকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। যেহেতু শামিমার হাতে টাকা পাওয়া যায়নি তার বিষয় তদন্ত করা হবে। তাকে কেন থানায় দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টম ব্যবসায়ীরা জানান, এনজিও কর্মী হাসিব দীর্ঘ ৮ বছরধরে কাস্টমস শুল্কায়ন গ্রুপ ৬ এ ঘুষের টাকা উত্তোলন করে আসছে। বর্তমান কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন যোগদান করার পর এসব এনজিও কর্মীদের অপসারন করা হয়। কিন্তু অসাধু রাজস্ব কর্মকর্তারা থেমে নেই। তারা হাসিবকে বাহিরে থেকে ঘুষের টাকা লেনদেনে কাজ করে আসছেন। যা তাদের হটসএ্যাপ চেক করলেই বেরিয়ে আসবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ