শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

কেশবপুরে কৃষি বিভাগের পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচিতে সফলতা

আরো খবর

কেশবপুর প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলর ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন মাঠে চলতি মৌসুমে ধান এবং কাঁচা ফসলের জমির পোঁকা -মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারে, প্রান্তিক পর্যায়ে চাষিদের সচেতন করতে ব্যাপক কার্যক্রমে এসেছে সাফল্য ।

মৌসুমে শুরুতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিবেশ বান্ধব ও স্বল্প খরচে কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সে লক্ষ্যে, কৃষকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ,পাচিং পদ্ধতি, আলোক ফাঁদ স্থাপন ও কৃষকের সাথে সরাসরি কথা বলে সচেতনতা বৃদ্ধি মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন ।

এসকল কার্যক্রমে তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ইয়াসির আরাফাত ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসারমামুনুর রশীদ। এছাড়া অন্যান্য উপসহকারী কৃষি অফিসার বৃন্দ তার সাথে কাজ করেন।

চলতি বছর বন্যা পরবর্তী কেশবপুর উপজেলার অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চলে যেসব আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে সেখানে ব্যাপক পোকা-মাকড়ের আক্রমনে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ে। বর্তমানে বাজারে যে সকল কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে তার ব্যবহার করে আশানুরূপ কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অধিকাংশ কৃষক অভিযোগ করেন।

উপজেলার মজিতপুর ইউনিয়নের বায়সা গ্রামের কৃষক বিকাশ দত্ত জানান, তার ৫০শতক জমির আমন ক্ষেতে প্রথমে মাজরা পোকা পরে পচা রোগ দেখা দেয়। অপর দিকে উপজেলা সাবদিয়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন, তার ২ দুই বিঘা জমির বেগুনের ক্ষেত পোকা মাকড়ের আক্রমণের সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক হাজার টাকার কীটনাশকে কোন কাজ না হওয়ায় শেষে বেগুন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। চারিপাশে পানি বদ্ধ থাকায় রোপনকৃত ঝাল গাছের ব্যাপক পরিমাণে মাকড়ের আক্রমণে কৃষক দিশেহারা।

 

ঠিক সে সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিবেশবান্ধব আলোকপাত, পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক সফালতা এসেছে বলে কৃষকরা জানান। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানাযায়, এখন মূলত পাতা মোড়ানো, মাজরা ও সবুজ পাতা ফড়িং’র আক্রমণ হয়ে থাকে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুস্তম আলী জানান, চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ৭১৬০ হেক্টর জমিতে। সবজি হয়েছে ৬৩২ হেক্টর, তুলা ২৮ হেক্টর এবং মাসকলাই ২৯ হেক্টর জমিতে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ