শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবন এখন তিন বনদস্যু বাহিনীর পশ্চিম সুন্দরবন এখন তিন বনদস্যু বাহিনীর অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। ফলে বনের গভীরে যেতে পারছেন না সাধারণ জেলে ও বাওয়ালীরা।
সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী, নীলডুমুর, কৈখালী ও গাবুরা সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের কলাগাছিয়া থেকে মান্দারবাড়িয়া পর্যন্ত তিনটি বনদস্যু দল নিয়মিত চাঁদাবাজি ও অপহরণের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করছে। তারা বনের ভেতর প্রবেশ করা জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের মারধর করে জিম্মি করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সুন্দরবনের তিন বনদস্য বাহিনীর মধ্যে রয়েছে আলিফ বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী ও কাজল-মুন্না বাহিনী।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর ২০২৫) তারিখ সকালে উপজেলার কদমতলা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার সরজমিনে গিয়ে কয়েকজন জেলের সাথে কথা বলে জানাযায়, সম্প্রতি একাধিক নৌকা বনের ভেতর থেকে দস্যুদের হাতে লুট হয়েছে।
এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। ফলে উপকূলের হাজারও জেলে পরিবার পড়েছে খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে। জেলেরা আরো বলেন বনে যাওয়ার আগে ডাকাতদের নামের কার্ড করে গেলে অনেকটা ছাড় পাওয়া যায়, আর কার্ড করে না গেলে যেমন মার তেমনি বেশি টাকা দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বনবিভাগ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং যৌথবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। তবে দস্যুদের আতঙ্ক কাটেনো সম্ভব হচ্ছে না। জিয়াউর রহমান আরে বলেন, বনদস্যু বৃদ্ধির করণে স্টেশনে সরকারি রাজস্ব কমে গেছে। তিনি আরো বলেন দস্যুদের নির্মূল করা না হলে জেলেরা বনে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। আর জেলেরা বনে না গেলে রাজস্ব হারাতে হবে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বনদস্যুদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় জীবিকার তাগিদে বনে প্রবেশ করতে পারবে না জেলে ও বাওয়ালীরা। এতে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত সুন্দরবন থেকে বনদস্যু নির্মূল করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত সুন্দরবন থেকে দস্যদের উচ্ছেদ করা হবে। তিনি স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, জেলেরা যদি সহযোগিতা করে সুন্দরবন থেকে ওদের কে নির্মূল করা সম্ভব হবে।

