শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোল বন্দরে পণ্যচালান পাচারের সাথে জড়িত দুই আনসার কমান্ডার প্রত্যাহার

আরো খবর

 

সুমন হোসাইন: দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্কফাঁকির পণ্যচালান পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্রী অসিত কুমার এবং ইয়ামিন কবির নামে দুইজন আনসারের প্লাটুন কমান্ডার প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক শামীম হোসেন রেজা।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে আনসারের দুইজন প্লাটুন কমান্ডার প্রত্যাহার করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে ১৬ অক্টোবর বেনাপোল স্থলবন্দরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে দুইজন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রট নিয়োগ দিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মো.আজহারুল ইসলাম।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় বাইপাস সড়কের ট্রাক টার্মিনালের সামনে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ঢাকা মেট্রো ট-২২-৭৫৬৬ নম্বরের একটি বাংলাদেশি ট্রাক থেকে আড়াই কোটি টাকার অবৈধ পণ্যচালান আটক করে। এ ঘটনার পর ২৩ সেপ্টেম্বর বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালের ৯, ১০, ১১ এবং ছোটআঁচড়া মোড়ে গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা অবৈধ পণ্য পাচারের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পণ্য পাচারে জড়িতরা হলেন- নাজমুল হক, কৃষ্ণ কুমার দাস, শ্রী আনন্দ কুমার দাস ও রাসেল শেখ।

এছাড়াও বন্দরের আনসার ক্যাম্পের দুইজন প্লাটুন কমান্ডার শ্রী অসিত কুমার বিশ্বাস এবং ইয়ামিন কবীর একই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে উল্লিখিত আনসার সদস্যদের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রত্যাহার ও তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের বায়োমেট্রিক হাজিরা স্থগিত করা হয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ বছরধরে গড়ে উঠা বন্দরের দুর্বল নিরাপত্তা বাহিনী অসাধু ও শুল্কফাঁকির চক্রের হোতারা তাদের নিয়ন্ত্রন করছে। নগদ অর্থ লেনদেনে তাদের তুষ্ট করে নানা অপকর্ম করে বন্দরে। বেনাপোল বন্দর নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ বাহিনীদ্বারা পরিচালিত হলে অনিয়ম জিরো টলারেন্সে যাবে বলে অভিমত দিয়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দর এখন জিরো টলারেন্স নিতীতে চলবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। বন্দরের ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে যাতে কেও কোন অপরাধ না করতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। বন্দরের সিসি ক্যামেরায় সর্বক্ষনিক নজরবন্ধি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ