বেনাপোল প্রতিনিধি: ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসানুল কবীর তুহিনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিতের ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরুপ মন্তব্য লিখে পোস্ট দিচ্ছেন নেটিজেনরা। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের চাপে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা মুখ না খুললেও সভাপতির হাতে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনাটি এখন টক অব দা টাউনে পরিনত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানান, গত সোমবার দুপরে বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এসময় তারা রুমের ভিতর হতে চড় থাপ্পড় ও গালাগালির শব্দ শুনতে পান। প্রধান শিক্ষককে ’আপনি আমাকে মারছেন কেন প্রশ্ন করতে শোনা যায়’। এসময় স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক ভাতা আন্দোলনে শার্শা উপজেলায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে এপ্রতিনিধিকে জানান,বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে সভাপতির সাথে তার কথা কাটা কাটি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা সনির মধ্যস্তায় ঘটনাটির মিমাংসা হয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতি ও ছাত্রদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের বিল ভাউচারে স্বাক্ষরে অনিয়ম নিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক শিক্ষক জানান, গত ৫ অক্টোবর ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যক্তিদের ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সেই আলোকে প্রধান শিক্ষক তুহিন নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দেন। স্কুল কমিটির সভাপতিকে না জানিয়ে কেন ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দিয়েছেন সেটার জন্যই তার গায়ে হাত তুলতে পারে। সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়েছে ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বেসরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনের। এ পদে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাখার বিধান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গণমাধ্যমকর্মীরা উভয়পক্ষকে সৃষ্ট গোলযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলেও কোন সদ উত্তর পাননি। এ ঘটনায় জনসাধারনের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। তবে কি প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম না সভাপতির ক্ষমতার দাপট প্রয়োগ এমন প্রশ্ন এখন জনমনে।

