এইচ এম রূহুলকুদ্দুস :-রাজনীতি করার কারনে দীর্ঘ ১৭বছর বাড়ি ছাড়া, এমনকি মমতাময়ী মায়ের মুখখানা পর্যন্ত দেখার সুযোগ পর্যন্ত হয়নি। যাকে নিয়ে এ আলোচনা তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওণকুল ইসলাম শ্রাবণ। তার প্রতিদান স্বরুপ দলের হাই-কমান্ড সেই রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের হাতে তুলে দিলেন ধানের শীষের প্রতীক।
যিনি দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি কেশবপুরের মাটিতে পা দিতে পারেননি, তার হাতেই তুলে দেয়া হয়েছে যশোর -৬ সংসদীয় আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ত্রয়েদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুকেছেন তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ সাবেক ছাত্রদলের সভাপতিকে মনোনয়ন দেওয়া। রওনকুল ইসলাম বলে জানিয়েছেন তিনি সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ।
২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েছিলেন, বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক স্নাতকোত্তর ও গ্রন্থগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যায়নরত অবস্থায়২০২০ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হয়ে ছিলেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৩ সালে আগস্টের সভাপতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার দুই মাসের মাথায় তাকে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলামের আলমগীর সোমবার সন্ধ্যায় ২৩৭ আসনের দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে ৯০ কেশপুর (যশোর-৬) আসনের প্রার্থী হিসাবে রওনকল ইসলাম শ্রাবণের নাম ঘোষণা করা হয়।
তিনি মনোনয়ন পেয়ে ফেসবুকে প্রথম পোস্টে মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করেন, তারপরে লেখেন, আমি আপনাদের নেতা নই আমি আপনাদের ভাই, আপনাদের সন্তান,আপনাদের আবেগকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। আমি শুধু অনুরোধ করব প্রিয় মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।
আমরা সেই দিনই বিজয় মিছিল করব। দেশের গণমানুষের ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষ বিজয়ের মধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। আপনারা যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন, তাহলে আপনারা দলের নির্দেশ এবং আমার অনুরোধ রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি। আমরা যতজন ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম সকলে এক ও অভিন্ন।
রাতেই কাজী রওণকুল ইসলাম শ্রাবণ আর এক মনোনয়ন প্রত্যাশী কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদের বাসায় উপস্থিত হয়ে কোলাকুলি করেন, তারপর আর এক মনোনয়ন প্রত্যাশীর কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের বাসায় যেয়ে কোলাকুলি করে। যা ছিল কেশবপুরে রাজনীতি এক নতুন বার্তা।

