কেশবপুর প্রতিনিধি:
কেশবপুর (যশোর): আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে এক অভূতপূর্ব ও আগ্রহদ্দীপক লড়াইয়ের সূচনা হয়েছে। এই আসনে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং তারই এক সাবেক ছাত্র। শিক্ষক-ছাত্রের এই নির্বাচনী দ্বৈরথ স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই লড়াইয়ে একপক্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনের সাথে জড়িত এই প্রবীণ নেতা জামায়াতে ব্যানারে নির্বাচন করছেন।
অন্যদিকে, তার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছেন তারই এককালের ছাত্র, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম (শ্রাবণ)। জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তারুণ্যের প্রতীক এই প্রার্থী লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে।
অধ্যাপক মোক্তার আলী তার নির্বাচনী প্রচারণায় একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রের প্রতি স্নেহ বজায় রেখেও, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তিনি বলেন,কাজী রওনকুল ইসলাম আমার ছাত্র। সে মেধাবী এবং যোগ্য। তবে রাজনীতিতে আদর্শ ও অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। কেশবপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন যে, তিনি চান তার ছাত্র একটি গঠনমূলক বক্তব্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক এবং এই লড়াই যেন এলাকার মানুষের স্বার্থের ঊর্ধ্বে না যায়।
অন্যদিকে, কাজী রওনকুল ইসলাম (শ্রাবণ) তার শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও, পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন। তিনি বলেন,অধ্যাপক মোক্তার আলী আমার শিক্ষক, তার প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা সব সময় থাকবে। তবে ভোট হলো জনগণের অধিকার এবং উন্নয়নের প্রতীক। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকও চান আমি যেন শিক্ষক-ছাত্রের গঠনমূলক বক্তব্য বজায় রেখে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হই।”
তরুণ এই প্রার্থী আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র হিসেবে তিনি পরিবর্তন ও আধুনিকতার প্রতীক নিয়ে এসেছেন এবং শিক্ষককে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেয়ে তিনি নিজেকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং ও প্রস্তুত মনে করছেন।
সাধারণ জনগণ মনে করেন যশোর-৬ আসনে এই শিক্ষক-ছাত্রের লড়াই এখন কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক প্রতীকী লড়াই, যা কেশবপুরের ভোটারদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে।

