শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর চুড়ামন কাটি ইউপি চেয়ারম্যান মান্নানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:
জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ন ৩ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ৩৭০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে নিজের ভোগ দখলে রাখার অপরাধে যশোর ৭নং চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান (মুন্না) (৫৮) এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন,২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন,সমন্বিত কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমীন বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলা নং ১৪,তারিখ ০৪/১১/২০২৫ ইং।

 

মামলা সূত্রে জানাগেছে, যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ আব্দুল মান্নান বিগত ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৭ নং চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুদকের চাওয়া আব্দুল মান্নানের সম্পদ হিসাব বিবরনীতে ২২টি দলিল মূল্য বাবদ ১কোটি ২৬লাখ ৮৯ হাজার টাকার স্থাবর এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, ডেপুটি পোষ্ট মাষ্টার জেনারেলের কার্যালয় যশোর হতে ক্রয়কৃত ৩ মাস অন্তর অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৩টি ৪০লাখ, একটি পুরাতন জীপগাড়ী পুরাতন মূল্য ৬লাখ টাকার অস্থাবর সর্বমোট ১ কোটি ৬২লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের ঘোষনা দেন।

 

দুদক যাচাইকালে আব্দুল মান্নানের মোট ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৮ টাকার স্থাবর এবং ৬০লাখ ৩১ হাজার ৫৯২ টাকার অস্থাবর মোট ৪ কোটি ৩৮লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পান। আব্দুল মান্নান ২কোটি ৭৫লাখ ৩০ হাজার ৯৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য সম্পদ বিবরনীতে গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

 

 

দুদকের তদন্তে ধরা পড়েন তার স্ত্রী মোছাঃ মনিরা বেগমের নামীয় জমিতে স্বামী আব্দুল মান্নান ৩ তলা ও ৪তলায় আংশিক ভবন নির্মাণ করেন। উক্ত ভবন নির্মাণে আব্দুল মান্নান ১ কেটি ২লাখ ১৮ হাজার ৭৭৬ টাকা ব্যয় করেন যা তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরনীতে উল্লেখি করেননি। আব্দুল মান্নান এর স্ত্রী মোছাঃ মনিরা বেগমের পৈত্রিক জমি ৫ শতাংশে স্বামী আব্দুল মান্নান ৪ তলা ও ৫ তলায় াআংশিক ভবন নির্মাণ করেন যা নির্মাণে তিনি ১ কেটি ২৯লাখ ৮১ হাজার ৭৩ টাকা ব্যায় করেন কিন্তু দাখিলকৃত সম্পদ বিবরনীতে তার তিনি উল্লেখ করেননি।

 

 

 

এছাড়া, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে গাড়ীর মূল্য বাবদ ১৪লাখ টাকা গোপন করেছেন এবং সোনানী ব্যাংক লিমিটেড,চুড়মানকটি শাখা,যশোর চলতি হিসাব নাম্বারে ১০লাখ ৩১ হাজার ৫৯২ টাকা স্থিতি রয়েছে যা তিনি দুদকের চাওয়া দাখিলকৃত সম্পদ বিবরনীতে উল্লেখ করেননি। দুদক সূত্রে আরো জানাগেছে, আব্দুল মান্নান এর আয়কর রির্টানের তথ্য অনুযায়ী ৬৩লাখ ৯ হাজার ৬শ’ টাকার গ্রহনযোগ্য আয় পান দুদক।

 

দুদক আব্দুল মান্নানের সম্পদের খোঁজে পান ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৮ টাকার স্থাবর এবং ৬০লাখ ৩১হাজার ৫৯২ টাকার অস্থাবর সর্বমোট ৪ কোটি ৩৮লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পান। দুদকের টিম অনুসন্ধ্যানকালে জানতে পারেন,আব্দুল মান্নান চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ন ৩ কোটি ৭৫লাখ ১০ হাজার ৩৭০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে নিজের ভোগদখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তার নামে দুদকের কর্মকর্তা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করে অনুমতি পেয়ে মামলা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ