শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন রুপে ঝিকরগাছা সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন ইউএনও রনী

আরো খবর

আলমগীর হোসেন আলম, ঝিকরগাছা : নতুন রুপে ঝিকরগাছাকে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবগত ইউএনও রনী খাতুন।  গত ৯ নভেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তিনি। ওই দিন তার  কার্যালয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় পালন করতে চাই। আমাদের কার্যক্রমে বসে থাকার কোন সুযোগ নাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই জনপদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত এবং উন্নয়ন তরান্বিত করা সম্ভব হবে। এর জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

তিনি বলেন, আপনারা সমাজের দর্পন। আপনারা সমাজের ক্রটি বিচ্যুতি তুলে ধরলে আমার কাজের ধারাবাহিকতা প্রসারিত হবে। আশাকরি আপনারা এই উপজেলার সকল ভেদাভেদ ভুলে নাগরিকের সুবিধা-অসুবিধা গুলো আমাকে অবগত করবেন। কোন মিথ্যা বানোয়ট প্রচারের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবেন না। আমরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নতুন রুপে ঝিকরগাছা সাজাতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

এর আগে তিনি শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সংবাদকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং জনসেবায় তার অনন্য অবদানের জন্য শ্যামনগর উপজেলায় তিনি বেশ প্রশংসিত হন। একজন স্বচ্ছ, সাদামাটা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলাকে একটি মডেল রূপে রূপান্তিত করতে দিন-রাত নিরলস ভাবে কাজ করেছেন।

 

 

 

মাত্র ১১মাস ১৫দিনে তিনি সবার মন জয় করে নিয়ে একজন সৎ, নিরপেক্ষ, ও উদার মনের মানবিক ইউএনও হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার স্বল্প সময়ের দায়িত্বে শ্যামনগর পৌরসভার জন্য সুপেয় পানিসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ময়লা আবর্জনা ফেলার ভাগাড় তৈরি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ ছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন মালঞ্চ এবং খোলপেটুয়া নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ জনস্বার্থে অসংখ্য জনহিতকরণ কাজ করেন। এর আগে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই বিএনপি’র বিবাদমান দু’পক্ষের ইট বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ মিটিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন।

শ্যামনগর উপজেলাবাসী তার বদলী মেনে নিতে পারেনি। যার কারনে তার বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানারে মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী একাধিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করেন। সততা, ন্যায়পরায়ণতা,উন্নয়ন অগ্রযাত্রার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় কোন সরকারি কর্মকর্তার বদলি ঠেকাতে শ্যামনগর উপজেলার ইতিহাসে এটিই প্রথম মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

উল্লেখ্য, তিনি যশোরের পাশ্ববর্তী ঝিনাদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বাতানগাছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। একই এলাকায় তার শ্বশুর বাড়ী। স্বামী সাতক্ষীরার উপ পরিচালক (পাসপোর্ট) মো. আজমল কবির। তাদের দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান। তার চাকরী জীবনে রাজশাহী কালেক্টরেটে কমিশনার, নাটোর সদরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), মেহেরপুর ডিসি অফিসে সিনিয়র সহকারী কমিশনার, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা, মুজিবনগরে উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা ও সর্বশেষ ঝিকরগাছার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) করেছেন। তাঁর এই কর্মকাল আরো সমৃদ্ধ এবং জনপ্রত্যশা পুরণ হবে বলে মনে করেন সচেতনমহল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ