মনিরামপুর প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মাছনা খানপুর গ্রামের যুবক হাফেজ বেলাল একের পর এক ফল চাষ করে সাফল্য পেয়ে এলাকায় ফল চাষী বেলাল’ নামেপরিচিতি পেয়েছেন। এবার চায়না কমলা ও হলুদ মাল্টা চাষেও ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।বেকারত্ব জয়ের গল্পে তিনি হয়েছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা, কৃষিতে একটি ব্র্যান্ড।
মনিরামপুর উপজেলার মাছনা খানপুরের প্রান্তিক পরিবারে জন্ম বেলাল হুসাইন। বাবা নজরুল ইসলাম কৃষক, মা আলেয়া বেগম গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই বেলালের স্বপ্ন ছিল—নিজের পায়ে দাঁড়ানো, মানুষের উপকারে কিছু করার।
উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি বেছে নেন কৃষিকে। ছয় বছর আগে বন্ধুর পরামর্শে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন হলুদ মাল্টা চাষ। সঙ্গে কুল, পেয়ারা, চায়না কমলা।
এরপর একের পর এক ড্রাগন স্ট্রবেরি আঙ্গুর আনার লঙ্গনসহ নিত্য নতুন জাতের হাল চাষ আবাদ করেন। এভাবেই গড়ে ওঠে মিশ্র ফলের বাগান।
শুরুর দুই বছর ফলন আশানুরূপ ছিল না। কিন্তু কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি আর নিরলস পরিশ্রম—বদলে দেয় দৃশ্যপট।
মোট ব্যয় ছয় বছরে প্রায় ছয় লাখ টাকা। আর আয়—পনেরো লাখ টাকারও বেশি। চলতি মৌসুমেও হলুদ মাল্টা ও চায়না কমলায় পেয়েছেন বাম্পার ফলন।এখন তিনি শুধু বেলালের নয়—এলাকার শ্রমজীবী মানুষেরও ভরসার জায়গা।
স্থানীয় শ্রমিক ইউনুস আলী বলেন,“বেলাল ভাই বাগান করেছিলেন বলে আমরা ১০–১৫ জন নিয়মিত কাজ পাই। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি।”
চাষী বেলাল বলেন,শুরুর দুই বছর খুব কষ্ট গেছে। ফলন পাইনি। তবুও হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ আর নিজের পরিশ্রমে আজ আত্মনির্ভর হতে পেরেছি। আল্লাহর রহমতে যা চাষ করেছি—তাতেই লাভবান হয়েছি।”
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন হাফেজ বেলাল একজন শিক্ষিত তরুন উদ্যোক্তা।তিনি মিশ্র ফল চাষি। বেলাল হলুদ মাল্টা,চায়না কমলা,ড্রাগন,স্ট্রব্রেরি,আঙ্গু র, আনার,লঙ্গনসহ নিত্যনতুন বিভিন্ন ফল চাষ করে থাকেন।বর্তমানে তিনি হলুদ মাল্টা ও চায়না কমলা চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন। আমরা তাঁকে নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি আর পরিশ্রম—জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সাফল্য এনে দিতে পারে তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাষী বেলাল। একজন সাধারণ গ্রামের যুবক এখন হয়ে উঠেছেন এলাকার উদাহরণ।

