সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর নবযুগ শিক্ষা সোপান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। ক্লাস করেন না অর্ধেক শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান সারা বছর।
এদিকে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় চত্ত্বরের কয়েকটি গাছ কাটা, প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ক্লাস না নিয়ে চলে যাওয়া, শিক্ষক রুমে রাজনৈতিক সভা পরিচালনাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১ জুন দুপুরে কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এসব অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।এছাড়া বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন কর্মচারী ছাড়া আর কোনো শিক্ষককে ওইদিন বিদ্যালয়ে দেখা পাননি ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন পরিদর্শনকারী টীম।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন শিক্ষক হাজিরা খাতায় ওইদিন স্বাক্ষর পরীক্ষা করে দেখেন বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু ক্লাস না নিয়ে সবাই বিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন। ফলে বিদ্যালয়ের বার্ষিক, জেএসসি ও এসএসসি ফলাফল এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন বলেন, ‘কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ওইদিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে গাছ কাটাসহ নিয়ম বহির্ভুতভাবে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি পরিদর্শনকালে আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলতে পারিনি। বিষয়টি আমি উপজেলা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি’।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এলাকার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য। ওই বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী আছে। কিন্তু তারা ঠিক মত বিদ্যালয়ে আসেন না।
এছাড়া গত কয়েক বছর প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে স্বাধীনতা বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এদিকে গত ২ জুন অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন সময় সাংবাদিকরা ওই বিদ্যালয়ে গেলে সেদিনও প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি এসময় তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবাশিষ রায় জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান আহবায়ক কমিটির আহবায়ক কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাকে না জানিয়ে গাছ কাটা ভুল হয়েছে। বিদ্যালয়ের কোন ফান্ড না থাকায় ৩টি মেহগনি গাছ কেটে শিক্ষার্থীদের জন্য ৬টি বে ও ৪টি টেবিল তৈরি করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ করেননি
