শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

‘মাস্ত কালান্দার’ গান জনপ্রিয় হওয়ার গল্প বললেন রুনা লায়লা

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:

‘মাস্ত কালান্দার’ মূলত আধ্যাত্মিক ঘরনার গান। এই গানটি কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা শুরুতে দেশের একটি অনুষ্ঠানে গাইলেও, চুয়াত্তরে গান ভারতে। যা লুফে নেন দেশটির দর্শকরা। কালে কালে বাংলাদেশ-ভারত ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও জনপ্রিয় হয়েছে ‘মাস্ত কালান্দার’।

সেই থেকে এই গানটি ‘সঙ্গী হয়ে উঠেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন রুনা লায়লা।

পাঞ্জাবি ভাষার জনপ্রিয় এই গানটি রুনা লায়লা নতুন সংগীতায়োজনে গেয়েছেন কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমে। সেই থেকে ‘মাস্ত কালান্দার’ ফের আলোচনায় এসেছে।

গেল ১৭ নভেম্বর রুনা লায়লার জন্মদিন ঘিরে প্রকাশ পেয়েছে ‘মাস্ত কালান্দার’। কোক স্টুডিও বাংলার ফেইসবুক পেইজে প্রচার হওয়া একটি ভিডিওতে রুনা লায়লা এই গানের পেছনের গল্প বলেছেন।

তিনি বলেন, “এটা আধ্যাত্মিক ঘরানার একটা গান। এই গানটা প্রথমে গাওয়া শুরু করেছিলাম বাংলাদেশে। তারপর ১৯৭৪ সালে ভারতে গেলাম তখন এই গানটা গাইলাম। গাওয়ার পরে দেখি ভীষণভাবে ওইখানে লোকেরা এটা পছন্দ করেছে। গানের নাম দিয়ে দিল ওরা ‘দামাদাম মাস্ত কালান্দার’।”

দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর গানটি তার ‘সঙ্গী’ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রুনা লায়লা বলেন, “এই গানটা তো অনেকেই গেয়েছেন যার যার নিজের স্টাইলে, আমি আমার স্টাইলে এটা অন্যরকমভাবে গাওয়ার চেষ্টা করেছি। যেটা সবাই পছন্দ করেছে। এই গানটা যেন আমার সঙ্গী হয়ে গেছে।”

অনুষ্ঠান ছাড়াও দেশ-বিদেশের গানের রিয়েলিটি শোয়েও দর্শকদের অনুরোধে ‘মাস্ত কালান্দার’ গাইতে দেখা গেছে রুনা লায়লাকে। গানটি কেবল দর্শকদের মধ্যে নয়, তার নিজের ভেতরেও ঘোর তৈরি করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

“এই গানের শেষের দিকে আমারও একটা অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়ে যায়। আমার দর্শকেও দেখি গানের তালে তালে হারিয়ে যাচ্ছে।”

গানটিতে নতুন করে কণ্ঠ দিতে গিয়ে বেশ উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন রুনা লায়লা। নতুন আয়োজনে ‘মাস্ত কালান্দার’ আনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন গানের প্রযোজক শায়ান চৌধুরী অর্ণব।

কোক স্টুডিও বাংলার ফেইসবুকে প্রকাশ করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, “রুনা লায়লার উন্মুক্ত সুরযাত্রা আর অর্ণবের আত্মবিশ্বাসে ‘মাস্ত কালান্দার’ পেল নতুন জীবন।”

রুনা লায়লাকে গানটি নতুন আয়োজনে গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার আগে খানিকটা ভীত ছিলেন অর্ণব। তবে তার আত্মবিশ্বাস এই কাজটি সুন্দর করে তুলেছে বলে ভাষ্য তার।

অর্ণব বলেন, “আমি প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম, উনার এই গানের নতুন ফর্ম, এটা উনি কীভাবে নিবেন। তবে আমার কেন জানি বিশ্বাস ছিল উনি এটা ভালোভাবে নিবেন। কারণ উনি মনের দিক থেকে এখনো অনেক তরুণ।”

পাশ থেকেই অর্ণবের এই কথা শুনে রসিকতা করে রুনা বলেন, “কিছুদিন আগে তো আমি আমার ১৭তম জন্মদিন পালন করলাম।”

গানটি নিয়ে রুনা লায়লা বলেন, “গানটা করতে গিয়ে আমি খুব উপভোগ করেছি। কারণ নতুন কোনো কিছু করতে আমারও অনেক ভালো লাগে। গানের মিক্সড, ফিউশন এটা খুব ভালো একটা ব্যাপার। কারণ এখন এটা অনেক দর্শক ভালোবাসে, বিশেষ করে এখনকার তরুণরা।”

তরুণদের নিয়ে এই সংগীতশিল্পী বলেন, “এখনকার তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করে আমার খুব ভালো লাগে। কারণ আমি তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। তাদেরকে আমি পছন্দ করি। তাদের অ্যাডাপ্টেশন আমার কাছে সুন্দর লাগে। আমি মনে করি, অর্ণব সেরা সেরা কাজ করছে।”

নতুন সংগীতায়োজনে ‘মাস্ত কালান্দর’ গানে কাওয়ালির আধ্যাত্মিক সুর, বাংলার লোকজ ভাব ও আধুনিক সংগীতের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। গানের শুরুতে রয়েছে মাখন মিয়ার কণ্ঠে হাসন রাজার বাংলা গানের একটি ছোট অংশ। পরে ধীরে ধীরে যোগ হয়েছে সুফি ঘরানার গভীরতা, লোকজ ছন্দ ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্র।

গানে একসঙ্গে কাজ করেছেন দুই প্রজন্মের শিল্পীরা। শিল্পী ফোয়াদ নাসেরের পাশাপাশি কোক স্টুডিও বাংলার নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা ‘মাস্ত কালান্দর’ গেয়েছেন।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান গাওয়া রুনা লায়লা ১৮টির বেশি ভাষায় গান করেছেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত–সেতুবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ তিনি। সূত্র: বিডি নিউজ

আরো পড়ুন

সর্বশেষ