সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

মনিরামপুরে বিলুপ্তির পথে ঔষধী গুনাগুন সম্পন্ন দেশীয় বনজ ফল ডুমুর

আরো খবর

রাজগঞ্জ মনিরামপুর::

যশোরের মনিরামপুরে বিলুপ্তির পথে দেশীয় বনজ ফল ডুমুর। গ্রামের বন-জঙ্গলে জন্ম নেয়া সবারই চেনা সেই ডুমুর খাবার হিসেবে অনেক পরিচিতি। বৃহত্তর এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে এক সময় দেখা মিলতো এই ডুমুরের।
তবে এ উপজেলার পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে বিশেষ করে রোহিতা, কাশিমনগর, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, খাঁনপুর, ভোজগাতি, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর, মনোহরপুর, কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, ঢাকুরিয়া ও মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ডুমুর তুলনামূলক বেশি জন্মে। কাঁচা ডুমুর তুলনামূলক সবার মাঝে সবজি হিসেবে বেশ পরিচিত। আর পাঁকা ডুমুরের জেলি যেন এক অন্যেন্য স্বাদে ভরপুর।
ডুমুর গাছ বিশেষ করে পুকুর পাড়, খালের পাশে এমনকি বাড়ির পাশে বনজঙ্গলে জন্মায় বেশি। অযতœ আর অবহেলায় বেড়ে উঠা সবার পরিচিত সেই ডুমুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে। খালের পাড়ে বা রাস্তার পাশে এ গাছের জন্ম হয়ে থাকে। বিশেষ করে এই গাছটি কেউ চাষাবাদ করে না। এই গাছটির ফলের গুনাগুন স্থানীয় সাধারন মানুষ বোঝেন না বলেই গুনাগুনে ভরা গাছটিকে আগাছা গাছ মনে করেন। সেই সাথে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে সবার পরিচিত এই গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে।
ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম রসুল চন্টা বলেন, আমাদের অঞ্চলে ডুমুরের চাষাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। আস্তে আস্তে এই পরিচিত গাছটি বিলিন হওয়ায় পথে। বৈদেশিক বাজারে এই ডুমুরের চাহিদা প্রচুর। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উচিত তৃণমুল পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এর চাষাবাদ বাড়ানো ও বাজারজাত করণে উৎসাহী করা। বাজারে এর চাহিদা থাকলেও স্থানীয় সাধারন মানুষ এটা বোঝেন না বলে মনে করেন সাবেক এ জনপ্রতিনিধি।
উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের গরীবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত পল্লী চিকিৎসক বিভূতি ভুষণ তরফদার বলেন, গুটিপক্স, ডায়াবেটিস, হ্নদরোগ, কিডনি ও মুত্রানালী সংক্রান্ত সমস্যা, ¯œায়ুবিক দুর্বলতা, মস্তিস্কের শক্তিবৃদ্ধি, সর্দি কাশি, ফোঁড়া বা গ্রস্থক্ষীতি টিউমার ও স্ত্রী রোগের চিকিৎসায় সবার পরিচিত ডুমুর অন্যান্ত কার্যকর।
স্থানীয় কৃষি উপসহকারি ভগিরাত চন্দ্র জানান, ডুমুরে প্রচুর পরিমানে আয়রন আছে। নানা ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে এই ডুমুরে। উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় এ গাছটি চোখে পড়ে। অনেকে এই গাছটি তাদের পরিবারের চাহিদার প্রয়োজনে জন্য পরিচর্যা করে থাকেন। তবে দেশের বৃহত্তর এ উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে এই ডুমুরের চাষাবাদ হয়না। তবে যদি কেউ মারাত্মক উপকারি এই ডুমুরের চাষ করতে আগ্রহী হয় তাহলে তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ