নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে যশোর মুক্ত দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা। পরে ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠের স্বাধীনতা মঞ্চের সামনে থেকে বিজয় র্যালি বের হয়।
বেলুন, ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে র্যালি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আশেক হাসান। র্যালিটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে। এতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন দাস, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সাল ছিল আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, ১৯৭১ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার লড়াই, আর ২০২৪ আমাদের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান।
১৯৫২-তে আমরা পেয়েছিলাম ভাষা, ১৯৭১-এ পেয়েছিলাম স্বাধীন রাষ্ট্র। সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বক্তারা এও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের যশোর থেকেই প্রথম বিজয়ের সূচনা হয়েছিল।যা যশোরবাসীর গর্ব। বৈষম্যহীন সমাজ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে যশোরকে আবারও অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে যশোর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। বিজয় র্যালিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, জেলা পরিষদ, যশোর পৌরসভা, পুলিশ লাইন স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী, সামাজিক–সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় যশোর মুক্ত দিবস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক আহসান হাবিব পারভেজ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম–সদস্য সচিব সোহানুর রহমান।
একাত্তরের রণাঙ্গনে বিজয়ের প্রথম বার্তা এসেছিল যশোর থেকে। যশোরেই প্রথম উঠেছিল বিজয়ী বাংলাদেশের লাল–সবুজের পতাকা।
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দিনটির মধ্যভাগে যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা। সেই ঐতিহাসিক যশোর মুক্ত দিবস উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠ থেকে তৈরি হয়েছিল নতুন এক ইতিহাস, যার পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা যশোরের নাম।

