শাহরিয়ার কবীর সৈকত, নড়াইল:
নড়াইলে নদীর পাড়ে পলিথিন বিছিয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে মাছের আঁশ। মাছ কাটার পর তা থেকে যতœ করে আলাদা করা হচ্ছে আঁশ। সেই আঁশ বস্তায় ভরে মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ বাড়িতে। বাড়িতে নিয়ে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকানো হচ্ছে রোদে।
ওই গ্রামের গাঁ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদীর পাড়জুড়ে পলিথিন বিছিয়ে মাছের আঁশ শুকানোর কাজটি করেন মৎস্য ব্যবসায়ী পরিবারের নারীরা। এরপর শুকনো আঁশ চলে যায় রপ্তানিকারকদের আড়তে। এ চিত্র এখন নড়াইল শহর উপকন্ঠের পঙ্কবিলা গ্রামে। এই আঁশ বিক্রি করে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন বুনছেন ওই গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী পরিবারের নারীরা। মাছের আঁশ ছাড়িয়ে যে বাড়তি আয় হয়, তা দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় নারীদের। এ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তাঁরা সংসারের খরচ চালান, আসবাবপত্র কেনেন, এমনকি গহনাও তৈরি করেন।
এসব পরিবারের পুরুষ সদস্যরা অনেকেই মাছের আড়তে কাজ করেন, আর পরিবারের নারীরা মাছের আঁশ পরিষ্কার করে শুকাতে দেন নদীর পাড়ে। রোদে শুকিয়ে তা বস্তায় ভরে রাখেন তাঁরা। প্রকারভেদে এসব আঁশ বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মণ দরে। যা থেকে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কথা হয় পঙ্কবিলা গ্রামের চম্পা রানীর সাথে। তিনি বলেন, আমার স্বামী মাছের আড়তে কাজ করেন। সারাদিন যে সব মাছ বিক্রি হয়, সব মাছের আঁশ ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমি আঁশগুলো নদীতে ধুয়ে পরিষ্কার করি। এরপর রোদে শুকাই। দুই দিন পর শুকনো আঁশ বস্তাবন্দি করে ঘরে রাখি। এক বছর পর সব আঁশ একসাথে বিক্রি করি।
ওই গ্রামের শিল্পী রানী বলেন, মাছের আঁশ বিক্রি করে আমরা বাড়তি টাকা আয় করি। এ টাকা দিয়ে আমরা ঘরের আসবাবপত্রসহ সংসারে টুকিটাকি জিনিসপত্র কিনি। এমনকি গহনাও তৈরি করি এ টাকা দিয়ে। সংসারের বাড়তি খরচের জন্য আমাদের স্বামীদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া লাগে না।
নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ মাছ বাজারের ব্যবসায়ী সৌমেন বিশ্বাস বলেন, বাজারের বড় মাছের ক্রেতারা মাছ এখান থেকে কেটে নিয়ে যান। মাছের যে আঁশ অবশিষ্ট থাকে সেগুলো আমরা বস্তায় ভরে বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে আমাদের পরিবারের নারী সদস্যরা এগুলো সংরক্ষণ করে। মজুদকৃত আঁশ একবার বিক্রি করি। এ থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় হয়।
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলা শহর থেকে প্রতিদিন কয়েক মণ মাছের আঁশ যায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পরে রপ্তানি হয় বিদেশে। চীন, সিঙ্গাপুর ও জাপানে এসব আঁশ ব্যবহৃত হয় নানা পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে। মাছের আঁশ সংরক্ষণ কাজের সাথে জড়িতদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

