সাব্বির হোসেন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দাঁতের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুর রহমানের বেসরকারি ডেন্টাল চেম্বারে মোবাইল কোর্টে জরিমানা করা হয়েছে। তবে তার সরকারি হাসপাতালের ভেতরে রোগী ভাগানো ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
আলোচিত ওই কথিত দাঁতের ডাক্তারের সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার নিশানা মার্কেটের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ‘ফ্যামিলি ডেন্টাল’-এ ঔষধ প্রশাসন ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চেম্বারটিতে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং চেম্বার পরিচালনায় একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় জাহিদুর রহমানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে স্থানীয়দের মতে, মোবাইল কোর্টে জরিমানার চেয়েও গুরুতর অভিযোগ হলো—সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে নিজস্ব বেসরকারি চেম্বারে পাঠানোর একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনা। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের ডিউটি সময়েই তিনি তার চেম্বারের কর্মচারীকে হাসপাতালের নিজের কক্ষে বসিয়ে রেখে রোগীদের প্রভাবিত করতেন এবং পরে বেসরকারি চেম্বারে এনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো।
একাধিক রোগী ও স্বজন জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পরও তাদের সম্মতি ছাড়াই নতুন করে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে ফি আদায় করা হয়েছে। শুধুমাত্র পরীক্ষা করাতে এসে তারা অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের ভেতরে রোগী ভাগানো, বেসরকারি চেম্বারের স্বার্থে প্রভাব বিস্তার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের মতো অনিয়ম একসঙ্গে সামনে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, শুধু আর্থিক জরিমানায় বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে বিভাগীয় তদন্ত, শোকজ নোটিশ এবং প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্ত বা বদলির মতো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,“বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
“মোবাইল কোর্টে জরিমানা করা হলেও মুল অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ায় অনেকে অনেকে এই অভিযান আইওয়াশ বলে মনে করছেন।
তাদের মতে হাসপাতালের ভেতরে রোগী ভাগানো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন ঝিকরগাছাবাসী।

