নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর কলোনি এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত শিশুটির নাম তামিম। তাকে মাদ্রাসার শিক্ষকের মারধরের কারণে মারা গেছে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একটি পক্ষ বলছে, খেলতে গিয়ে পড়ে আহত হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঝুমঝুমপুর ২ নম্বর কলোনিপাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের ছেলে তামিম (১০) ইছালী রশিদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার নজরানা বিভাগে পড়াশোনা করত। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ভোরে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
তামিমের বাবা ইসমাইল হোসেন জানান, গত ১১ ডিসেম্বর বিকেলে খেলতে গিয়ে তার ছেলে পড়ে পায়ে আঘাত পায়। তবে বিষয়টি সে কাউকে জানায়নি। পরে ১৩ ডিসেম্বর মাদ্রাসার শিক্ষক নুরুল আমিন বিষয়টি জানতে চাইলে আঘাতের কথা না বলায় তাকে মারধর করা হয়এমন কথা তিনি শুনেছেন। এর পর থেকেই তামিম আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, তামিমের দুই বছর আগে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হয়েছিল।
তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মাদ্রাসার সুপার মাজাহারুল ইসলাম শিমুল বলেন,খেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার কারণে তামিম অসুস্থ হয়েছিল। তাকে মারধর করা হয়নি। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসীর মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। ইছালী গ্রামের বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, খেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক শুধু বকাঝকা করেছিলেন। মারধরের কারণে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।
তামিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে সেখানে সাংবাদিকরাও যান। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে প্রথমে সুপার সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
সোমবার বিকেলে তামিমের বাবা-মা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, এ ঘটনায় তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, তামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

