মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কোটি টাকার প্রকল্পে অর্ধ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী (এল,জি,ই,ডি),উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীর বিরুদ্ধে। এমনি অভিযোগ এনেছেন স্থানীয়রা।
তারা বলেন উপজেলা প্রকৌশলী,উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীর যোগসাজসে ডব্লিউবিএম রাস্তাকে কাঁচা রাস্তা দেখিয়ে পিচ করণের জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু সে রাস্তায় ডব্লিউবিএমের যে মাল রয়েছে তার দাম প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। যা বরাদ্ধের ইস্টিমেট থেকে বাদ দেওয়া হয়নি বা ইস্টিমেটে উল্লেখ করা হয়নি। এতে করে সরকারের অর্ধ কোটি টাকা গিলে খেয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী,উপ-সহকারী প্রকৌশলী,কার্যসহকারী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। উন্নয়নের নামে কাগজে- কলমে এমন দূর্নীতিতে হতবাক এলাকার সচেতন মহল।
জানাযায়,এল,জি,ই,ডির বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলার গ্রামীন অবকাঠামো শীর্ষক প্রকল্পে মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গোলাম হাউজ থেকে দক্ষিন পাড়া বাজার রাস্তা ১০০০ মিটার পিচ করণের জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয় (আইডি নং ৫১৮৯)। কাজটি পায় মহেশপুরের ঠিকাদার দিপু চৌধুরীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের শুরুতেই কাগজে কলমে করা হয়েছে পাহাড় সমান দুর্নীতি। ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে সোনার খনি ক্ষ্যত রাস্তা উন্নয়নের কাজ। আর সে খনির টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন উল্লেখিত ব্যক্তিরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা খোঁড়ার কাজ করছে শ্রকিরা। প্রকল্পের কাজের সাইডে নেই কোন সাইনবোড। কিছু শ্রমিক রাস্তা খুঁড়ছেন আর অন্যরা তা রাস্তার পাশেই জড়ো করে রাখছে। এএস সরাতেই চকচক করছে ৭-৮ ইঞ্চি পরিমান সাদা বালি। দেখে মনে হচ্ছে রাস্তা নয় যেন ঠিকাদার পেয়েছে সোনার খনি। কাঁচা রাস্তা হিসাবে মাটি থেকে ১০ ইঞ্চি বালি,৭ ইঞ্চি এএস দিতে হবে ঠিকাদারকে।
কিন্ত সে রাস্তায় ৭-৮ ইঞ্চি পরিমান বালি রয়েছে। এবং এএস যা রয়েছে তা কাজ হয়েও থাকবে বলে জানান অনেকে। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন এ রাস্তায় ডব্লিউবিএমের যে মাল রয়েছে তাতেই কাজ হয়ে যাবে, ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পরিমান বালু লাগবে শুধু । ঠিকাদারের এ কাজে সোনার খনি লাভ থাকবে বলে জানান তিনি।
খাইরুল ইসলাম নামে একজন পথচারী বলেন, খোঁয়া বালুর রাস্তা এটা (ডব্লিউবিএম)। পাঁকা করা হবে তাই খোঁড়ার কাজ চলছে। খোঁয়াবালু(এএস) আলদা করে রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে দেখছি,আর নিচের বালু সেখানেই আছে। বালু সরিয়ে খুঁড়বে কিনা জানিনা।
এলাকার ফজলু রহমান বলেন,কাগজে-কলমে দুর্নীতি করলে সেটা সাধারণ মানুষ জানতেও পারবে না আর দেখতেও পারবে না। ফলে উন্নয়নের নামে চলে সরকারের দেওয়া বরাদ্ধের কোটি কোটি টাকা লুটপাট।
মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ স্বতা¡ধিকারী ঠিকাদার দিপু চৌধুরী বলেন, এটা ডব্লিউবিএমের রাস্তা না কাঁচা রাস্তা ইস্টিমেটে যদি ভুল হয় অফিস করেছে। আমাদেরকে কাজ দেওয়া হয়েছে আমরা কাজ করছি।
প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না,কোন ঝামেলায় যেতে চাই না। যারা প্রকল্প তৈরি করেছে তারাই বলতে পারবে। তবে বিষয়টি আমি স্যারকে (উপজেলা প্রকৌশলী) জানিয়েছি ।
উপজেলা প্রকৌশলী (এল,জি,ই,ডি) সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ বলেন, সেলভেজ যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে রাস্তাটি নিন্মমানের হবে। সে কারনে সেলভেজ বাদ দেওয়া হয়নি।
এবিষয়ে জানতে ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলী (এল,জি,ই,ডি) মনোয়ার হোসেনের সাথে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

