শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মণিরামপুরে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আরো খবর

ভাঙ্গা (ফরিদপুর)/রাজগঞ্জ সংবাদদাতা:

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভাঙ্গা–খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ গ্রামের রহমতুল্লাহর ছেলে নিশান (২৩) এবং কেশবপুর উপজেলার চালতীবাড়ী গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) ও তার বোন বিউটি (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ভাঙ্গা থেকে একটি ট্রাক খুলনার দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি মহাসড়কের মুনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ভাই-বোনসহ তিনজন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও দুইজন। হতাহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন।

 

খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

রাজগ্ঞ্জ সংবাদদাতা জানান,এক মাস আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে যশোরে একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন মিজানুর রহমান। শনিবার সকালে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মিজানুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন স্ত্রী নীলা ও শ্যালক নিশান। নাতি দুইটা তার নানা বাড়িতে রেখে যান তারা। তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৌঁছুলে মুখোমুখি একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে নিশান, নীলা ও মিজানুর রহমান মারা যান এবং চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রাজগঞ্জ এলাকায় ও জামাইর বাড়ি চালিতা বাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র ছেলে-মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রহমতুল্ল্যহ্র স্ত্রী। বিকাল ৪টা দিকে রাজগঞ্জ বাজারে তাদের মরাদেহ এসে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে বাতাস। রাজগঞ্জ বাজার এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

 

মাগরিব বাদ রাজগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয় । নীলা ও মিজানুর রহমান দম্পতির ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুটো ছেলে আছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ