শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে সপ্তাহজুড়ে শীতের দাপটে নাকাল জনজীবন 

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে গ্রাম থেকে শহরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কাল ৭টায় যশোরে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বুধবারও যশোরে একই তাপমাত্রা বিরাজ করে। চলতি মৌসুমে এর আগে আরও দু’দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল। এখন তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবারও যশোরে একই তাপমাত্রা বিরাজ করে।

এর আগে গত শনিবার যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ওইদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যশোরে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে টানা শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট হচ্ছে। আজ থেকে স্কুল খুলেছে। তবে তীব্র শীতের কারণে তাদের স্কুলে পাঠাতে পারিনি।

অটোরিকশাচালক মো. মিলন বলেন, শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে জরুরি দরকার ছাড়া বের হচ্ছেন না। তাই ভাড়াও পাচ্ছি কম। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে একেবারেই যাত্রী পাওয়া যায় না। তাই সন্ধ্যার পর থেকেই গাড়ি চালানো বন্ধ করে বাসায় চলে যায়।

এদিকে দুই দিন সূর্যের আলো পাওয়ায় বোরো ধান আবাদের বীজতলা, আলু ও টমেটো ক্ষেতের যে ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কৃষি কর্মকর্তারা করছিলেন, সেই আশঙ্কা কেটে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, গত শুক্রবার থেকে যশোরে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা বিরাজ করছিল। এতে বোরো ধান আবাদের বীজতলা, আলু ও টমেটো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু গত দুই দিনের সূর্যের দেখা মেলায় তাপমাত্রা বাড়ছে। এখন আর ফসলের সেই ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ