শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ: পর্যটনবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ

আরো খবর

  ফারুক রহমান:অপহরণ পরবর্তী ঘটনায় সুন্দরবনে পর্যটনবাহী সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায়, ফিরে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। গত শুক্রবার সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিক, পর্যটকসহ তিনজনকে অপহরণ করে। অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন দুই পর্যটক মো. সোহেল ও জনি এবং রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়।

 

খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার একটি রিসোর্টের মালিক (পরিচালক) ও দুই পর্যটককে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। একটি ডিঙিনৌকা নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে ঘুরতে গিয়ে বনদস্যুদের কবলে পড়েন তাঁরা।

গত শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের ঘাগরামারী টহল ফাঁড়িসংলগ্ন কেনুয়ার খালে এ ঘটনা ঘটে। তবে গত শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

এদিকে, সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় ৪০০ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় মালিকরা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা আসা দেশী-বিদেশী পর্যটক ফিরে যাচ্ছেন।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)গত রবিবার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা প্রায় ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙ্গে এর মালামাল নিয়ে যায়। এতে এসব ক্ষতিগ্রস্ত বোটের সৌন্দর্য্যে যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনি বোটে পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সোমবার ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকেরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ঝিনাইদহ থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা আব্দুর রহিম ও রবিউল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে পিকনিক কর্ণারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর জানতে পারলাম সুন্দরবনে যাতায়াতারে একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। পরিবারের সবার মন খারাপ। হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ আসা আসাদুজ্জামান কাবিল বলেন, সুন্দরবন ঘুরতে যাওয়ার জন্য পরিবার দিয়ে ঢাকা থেকে এসেছি। এখন দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কি করবো বুঝতে পারছি না। এখন ফিরে যেতে হবে।

খুলনার আঠারো মাইল এলাকা থেকে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি বাস নিয়ে এলাকা থেকে ৪৫ জন সুন্দরবনে ঘুরতে এসেছি। এখন দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সকল নৌযান চলাচল বন্ধ।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানির প্রতিবাদে সকল নৌযান মালিকেরা নিজ নিজ থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছে। ধর্মঘটে রয়েছে প্রায় ৪শ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।

তিনি আরও বলেন, প্রসাশন কিছু শর্তও দিয়েছে, বোট মালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল সেসকল শর্তপূরণ আদৌ সম্ভব। এজন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এই হয়রানী বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী এ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, সোমবার থেকে এখানে কোন নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। নৌপরিবহন অধিদপ্তর রবিবার পর্যটনবাহী নৌযানগুলো অভিযান চালিয়েছে।ষ। এজন্য নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। আমাদের উদ্দেশ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ