নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৫) হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের কপালিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কপালিয়া বাজারে একটি বরফকল পরিচালনা করে আসছিলেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত মুখ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ তার বরফকলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি পাশের কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ঝুম বিউটি পার্লারের গলির দিকে যান। সেখানে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত রানা প্রতাপের মাথায় গুলি করে। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই কপালিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বরফকলে কর্মরত শ্রমিক মো. বাপ্পি হোসেন বলেন,আমি বরফকলের ভেতরে কাজ করছিলাম। দাদা কাজ দেখে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর শুনি তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। গিয়ে দেখি তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
আরেক শ্রমিক শাওন সরদার জানান,খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি দাদা মাটিতে পড়ে আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন,আমরা ঘরেই শুয়ে ছিলাম হঠাৎ বাজি ফোটার মতো কয়েকটি শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি একজন লোক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে স্থানীয় ভাবে খোজ খবর নিয়ে জানা যায় , ব্যবসায়িক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত দ্বন্দ্ব—এই দুই দিক থেকেই ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ‘জিয়া’ নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে রানা প্রতাপের ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। সে সময় তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা থাকার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এ ছাড়া একটি নারীঘটিত বিষয় নিয়েও তদন্ত চলছে। জানা গেছে, ঘটনার দিন ‘ঝুমুর’ নামের ওই নারী ফোন করে তাকে ডেকে নেন। ঝুম বিউটি পার্লারের মালিকও তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
রানা প্রতাপের পরিবার জানায়, ঝুমুর তার বন্ধু ছিলেন। কাটাখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা ভালো বন্ধু ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
রানা প্রতাপ বৈরাগীর দুটি বিয়ে ছিল। তার প্রথম স্ত্রী সীমা মজুমদার এবং দ্বিতীয় স্ত্রী পিংকি মল্লিক। তিনি এক সন্তানের জনক; তার ছেলের বয়স ১০ বছর। তিনি কাটাখালি বাজারে মাছ আড়তের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। অধিকাংশ সময় তিনি নওয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান করতেন। তার বাবা-মা দুজনই পেশায় শিক্ষক।একসময় রানা প্রতাপের বিরুদ্ধে চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি রাজনীতি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। এছাড়া রানা প্রতাপ দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন,আজ ৬ জানুয়ারি এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

