শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শ্যামনগরে রোগীর মরদেহ নিয়ে পালানো চিকিৎসকের ক্লিনিক সিলগা

আরো খবর

সাতক্ষীরা ব্যুরো/শ্যামনগর প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রোগীর মরদেহ নিয়ে পালানো চিকিৎসক আনিছুর রহমানের মালিকানাধীন আনিকা ক্লিনিক সিলগালা করেছে প্রশাসন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে রবিবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেন।

ক্লিনিকটি সিলগালা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তরিকুল ইসলাম, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
এদিকে, অভিযানকালে আনিকা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত শনিবার আনিকা ক্লিনিকে মারা যাওয়া রোগী সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে শ্যামনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ইতিপুর্বে ডা: আনিছুর রহমানের পিতার মালিকানাধীন আনিকা ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছিলো। কাগজপত্র সংশোধন না করেই পুনরায় বেশকিছু দিন ধরে আবারও ওই ক্লিনিক পরিচালনা করছিলেন কর্তৃপক্ষ।
শনিবার বিষপানের পর ওই ক্লিনিকে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সিভিল সার্জন উক্ত ক্লিনিক সিলগালার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, সিলগালা করার সময় সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অপর এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দালাল দিয়ে ভাগিয়ে নিজস্ব ক্লিনিকে নেওয়াসহ স্বজনদের উপর হামলার ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে কৈখালী এলাকা থেকে গৃহবধু সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর রবিবার সকালে তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। এঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
উল্লেখ্য: গত শুক্রবার বিকালে কীটনাশক পান করে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী সালেহা বেগম (৩০)। এসময় তার স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে দালালরা তাদের ফুসলিয়ে ওই রোগীকে পাশের আনিকা ক্লিনিকে ভর্তি করে। একপর্যায়ে পাকস্থলী ওয়াশের পর শনিবার বিকালে ওই গৃহবধুর মৃত্যু হয়। এসময় রোগীর স্বজনসহ উত্তেজিত জনতার রোশানল থেকে রক্ষা পেতে ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিছুর রহমান রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া হবে জানিয়ে এ্যাম্বেুলেন্সযোগে রোগীর মরদেহ নিয়ে ক্লিনিক ছেড়ে সাতক্ষীরা চলে যান।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ