শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নাড়ির টানে মহানুভবতা: কপোতাক্ষ নদে বাঁশের সেতু নির্মাণ করে দিলেন প্রবাসী যুবক

আরো খবর

 শাহাজান শাকিল: যশোরের মনিরামপুরে কপোতাক্ষ নদের উপর নিজ অর্থায়নে কাঠ ও বাঁশের সেতু নির্মাণ করে প্রশংসায় ভাসছেন প্রবাসী যুবক জিয়াউর রহমান। নৌকায় পারাপারের ঝুঁকি ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে তিনি ডুমুরখালি বাজারসংলগ্ন খেয়াঘাটে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া এই সেতুটি নির্মাণ করেন। ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এই কাঠের সেতু মনিরামপুর উপজেলার ডুমুরখালি বাজার ও ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। ফলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব কমেছে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে নদীর দুই পাড়ের মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল ছোট নৌকা। বর্ষা মৌসুমে স্রোত বেড়ে গেলে কিংবা রাতে নৌকায় পারাপার হয়ে উঠত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
সেতুর উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান জানান, তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং ১৯ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসে রয়েছেন। ছুটিতে বাড়ি এসে মানুষের কষ্ট দেখে একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানান। সাড়া না পেয়ে নিজ উদ্যোগে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় পাঁচ মাসের পরিকল্পনা শেষে ৪০০টি বাঁশ, ২৬০টি কাঠ ও লোহার পেরেক ব্যবহার করে ২৮ দিনে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করা হয়।
তিনি বলেন, এই সেতু দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করতে পারবে এবং কোনো ধরনের টোল নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে সেতুর কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজ খরচে মেরামত করবেন বলেও জানান তিনি।
হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডুমুরখালি বাজারসংলগ্ন খেয়াঘাট দিয়ে নদের ওপারের বহু মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। প্রবাসী যুবক জিয়াউর রহমান নিজ অর্থায়নে কাঠ ও বাঁশের সেতু নির্মাণ করে একটি মহৎ কাজ করেছেন। তবে এখানে একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতুর প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের আগামী সভায় উত্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে প্রবাসী জিয়াউর রহমান মানুষের জন্য কাজ করতে মানবিক মনোভাবই যথেষ্ট—তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
3 Attachments  •  Scanned by Gmail

আরো পড়ুন

সর্বশেষ