রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বেনাপোলে বিদ্যুৎ শকে ৩০ টি অতিথি পাখির মৃত্যু

আরো খবর

ইকরামুল ইসলাম শার্শা(যশোর):
বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎ শকে একসাথে অসংখ্য অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ারিং অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার অভিযোগ উঠেছে।
বেশ কিছুদিন যাবৎ হাই-মাস্ট লাইটের আশেপাশে দুইএকটা পাখি মৃত দেখা গেলেও, লোকজন এটা নিয়ে ভ্রূক্ষেপ করেনি। শনিবার সকালে ইয়ার্ড এলাকায় এই ল্যাম্পপোস্টের নিচে বিদ্যুৎ সংযোগ বস্কের তালা খুললে তার ভিতরে প্রায় ত্রিশটি মৃত পাখি দেখা যায়। মৃত পাখিগুলো দেখে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বন্দরের মধ্যে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই অবস্থা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এই অতিথি পাখিগুলো আবাবিল পাখি হতে পারে।  রাতে তীব্র আলো ও ঠান্ডার কারণে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টে খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে রক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় পাখিগুলো বিদ্যুৎ শকের শিকার হয়। একে একে মারা যায় পাখিগুলো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি স্পষ্টতই ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ লাইনের সুরক্ষিত কাভার, ইনসুলেশন ও বন্যপ্রাণী-নিরাপদ নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতির কারণে বারবার বন্যপ্রাণির প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এবিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজা’র কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বহীন মনে হয়! তিনি বলেন বিষয়টি আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি, আগামিকাল বিষয়টি নিয়ে আমি ঢাকায় চিঠি দিয়ে দেবো।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দায়ী ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্যপ্রাণীবান্ধবভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ