শফিকুল ইসলাম, তালা, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকরী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারী সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত সিএস/সাত/শ-১/২০২৬/১/১(৬) নং স্বারকে ডাঃ মোঃ ফরহাদ জামিলকে সভাপতি ও ডাঃ জয়ন্ত সরকারকে সদস্য করে ২ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সুত্রে জানাযায়, তালা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আজিজুল হক নিজেকে সৎ ও আদর্শবান দাবি করে বুলি আওড়ে বেড়ালেও হাসপাতালের কর্মচারীদের ওভার টাইমের ১০% টাকা কেঁটে নিজেের পকেট ভরেন।
অধিকাংশ সময় হাসপাতালের কাজ ফেলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায় তাকে। এলাকার জামাই ও কমান দুলাভাই খ্যাত আজিজুল হক বিভিন্ন লোক দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি ধামকিসহ সাংঘাতিক বলে সম্বোধন করেন।
দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুযোগে হাসপাতালকে দুর্নীতির আতুর ঘরে পরিণত করেছেন। স্থানীয় হওয়ায় দাপট দেখিয়ে রিতিমত হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছেন।এছাড়াও হাসপাতালের আর্থিক থাতের প্রতিটি পরতে পরতে দুর্নীতির বীজ বপন করেছেন তিনি।
সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা সহ নানাবিধ অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। চাকুরীর বিধিমালা লঙ্ঘন করে তালা বাজার আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
সমবায় অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্টে সাভাপতি হিসেবে তার নাম পাওয়া গেছে। অনেক ডিপোজিট ভাউচারে সভাপতি হিসেবে আজিজুল হকের স্বাক্ষর আছে।
অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে চাকুরীরত পঞ্চাশ জনের অধিক লোকের কাছে থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি । ২ বছর পূর্বে টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তারা টাকা না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এক্ষনে আজিজুল হকের এহেনও দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠ্য তদন্ত পূর্বক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট সুবিচার দাবি করেন তালার সুধী সমাজ।
একটি সূত্র জানায়, তালা হাসপাতালের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের অতিরিক্ত ভাড়ার অংশ থেকেও তিনি নিয়মিত মাশোয়ারা খান। অথচ লাইটের অভাবে সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহনটি দিনের পর দিন পড়ে আছে। গরীব অসহায় রুগী এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আদর্শ সমবায় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি আজিজুল হক সরকারি চাকুরী করেন এটা জানা ছিলোনা। কোনো সরকারি কর্মকর্তা রেজিষ্ট্রেশন ভূক্ত সমিতির দ্বায়িত্ব পালন করা দন্ডনীয় অপরাধ। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত প্রধান সহকারী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি জানিনা কবে কখন সমিতির সভাপতি হয়েছি। তার স্বহস্তে স্বাক্ষর এর বিষয়টি নিয়ে বলেন আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেছে আমি স্বাক্ষর করেছি পরে আমার নামে সভাপতির সিল তৈরি করে আমার স্বাক্ষের নিচে মেরে রেখেছে আমি এব্যপারে কিছুই জানিনা।

