বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

কোটিপতি ভিক্ষুক, রয়েছে তিনটি বাড়ি সঙ্গে মারুতি সুজুকি গাড়ি

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:
বেয়ারিং লাগানো একটি লোহার গাড়িতে বসে ব্যস্ত বাজারে ঘুরে বেড়ান এক ব্যক্তি। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, দুই হাতে একজোড়া জুতা। তিনি কারও কাছে সরাসরি ভিক্ষা চান না। বরং এমন ভঙ্গিতে বসে থাকেন, যেন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করতে আগ্রহী হয়। এই দৃশ্যটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ব্যস্ত শরাফা বাজারের। খবর এনডিটিভির।

ওই ব্যক্তির নাম মঙ্গিলাল। বাইরে থেকে অসহায় ভিক্ষুক মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন কোটিপতি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার রয়েছে তিনটি বাড়ি, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। আছে একটি মারুতি সুজুকি গাড়ি ও তিনটি অটোরিকশা।

সম্প্রতি ইন্দোরে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে মঙ্গিলালের আসল পরিচয় সামনে আসে। শনিবার গভীর রাতে একজন কুষ্ঠরোগী নিয়মিত ভিক্ষা করছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযানকারী দল শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ অভিযান হিসেবেই দেখেছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চমকপ্রদ সব তথ্য।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো কথা না বলেই সহানুভূতি আদায়ের কৌশল রপ্ত করেছিলেন মঙ্গিলাল। প্রতিদিন ভিক্ষা করে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি আয় করতেন। তবে এই টাকা তিনি খরচ করতেন না।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার পর শুরু হতো তার আসল ‘ব্যবসা’। ভিক্ষার টাকা তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুদে ধার দিতেন—এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য। প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিজেই সুদের টাকা সংগ্রহ করতেন।

সরকারি হিসাবে, তিনি প্রায় ৪–৫ লাখ রুপি ঋণ দিয়েছেন, যেখান থেকে দৈনিক ১ থেকে ২ হাজার রুপি সুদ আয় করতেন।

একসময় কপর্দকহীন মনে করা এই ব্যক্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক। তার তিনটি অটোরিকশা দৈনিক ভাড়ায় চালানো হয়। এমনকি ব্যক্তিগত মারুতি সুজুকি গাড়িটিও ভাড়ায় দেওয়া হয়।

প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার আওতায় একটি সরকারি বাড়িও পেয়েছেন। যদিও তার আগেই তার একাধিক সম্পত্তি ছিল।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা দিনেশ মিশ্র জানান, মঙ্গিলালকে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সাল থেকে মঙ্গিলাল ভিক্ষা করছেন। তার বিষয়ে সব তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন আকারে কালেক্টরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, ইন্দোরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ভিক্ষুক শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছেন, ১ হাজার ৬০০ জনকে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র:ইত্তেফাক

আরো পড়ুন

সর্বশেষ