বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আশাশুনিতে ভোট কেন্দ্র সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

আরো খবর

সমীর রায়, আশাশুনি : সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আশাশুনিতে কেন্দ্র মেরামতের নামে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে। অনুগত প্রধান শিক্ষকদের ভোট কেন্দ্র সংস্কারে মোটা অংকের বরাদ্দ দিয়ে নিজেই সেসব অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক।

এই স্বপন কুমার বর্মন আশাশুনিতে যোগদানের পর থেকেই নিয়ম নীতিমালা উপেক্ষা করে নিজের খেয়াল খুশি মতো নিজের দপ্তর চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ এখন সব ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মুখে মুখে। তার পরেও বহাল তবিয়তে দুর্নীতির আখড়ার পরিচালক হিসেবে শিক্ষক কর্মচারীদের হয়রানি করে যাচ্ছেন তিনি।

 

জানাগেছে, রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট কেন্দ্র মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য বাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০ হাজার, কামালকাটি স্কুল ৭০ হাজার, বলাইপুর স্কুল ৫০ হাজার, বৈকরঝুটি স্কুল ১লক্ষ, দক্ষিন চাপড়া স্কুল ৫০ হাজার, শ্রীধরপুর স্কুল ৭০ হাজার, রামনগর স্কুল ১লক্ষ, বড়দল দক্ষিণ স্কুল ২৫ হাজার, বড় দূর্গাপুর স্কুল ৭০ হাজার, নাংলা স্কুল ১লক্ষ ও প্রতাপনগর স্কুলে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সংস্কার ও মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র গুলোতে ৫টি এসি/ডিসি বাল্ব, কয়েকটি রড লাইট ও সামান্য টুক টাক সংস্কার প্রয়োজন। যে সংস্কার বা মেরামত গুলো ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে বা হচ্ছে। আনুমানিক হিসেব করে বা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বক্তব্য মতে অনেক কেন্দ্রে বরাদ্দের ৫০% এবং কিছু কেন্দ্রে বরাদ্দের ৩০% খরচ হওয়ার কথা না। বলাইপুর স্কুলে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সেখানে সংস্কার বা মেরামতের জন্য ৫টি এসি/ডিসি বাল্বই যথেষ্ট।

 

কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সত্ত্বেও ১১ টি প্রতিষ্ঠানের ভোট কেন্দ্রের মধ্যে শোভনালী ইউনিয়নে একই ক্লাস্টারে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র এ তালিকায় রাখা হয়েছে।
পক্ষান্তরে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র গুলো ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কার উপযোগি অতি

 

গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রের নাম এ তালিকায় নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিসারের অনুগত ও বিশ্বস্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানে ছাড়া এ ধরনের বরাদ্দ দেয়া হয় না।

 

শ্রীউলা ইউনিয়নের নাকতাড়া সপ্রাবি ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে শৌচাগার নেই। কিন্তু সেখানে কোন বরাদ্দ না দিয়ে আধুনিক শৌচাগার থাকা বলাইপুর স্কুলে বরাদ্দ দিয়ে টাকা তুলেছেন। প্রাচীর বিহীন স্কুল গুলোতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি কোথাও রঙ করিয়েছেন, কোথাও অস্থায়ী টিনসেড ঘর বা অহেতুক খরচ দেখিয়ে ভাউচার জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও এই ফর্মুলা ব্যবহার করে ভাউচার জমা নেয়া হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান।

 

বলাইপুর সপ্রবি এ বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে দেওয়ালে কিছু রং করা হয়েছে। কেন্দ্রের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে অস্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথা বললে সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন “এখানে নিরাপত্তা ব্যাঘাত ঘটার মত ঘটনা ঘটবে না।”
এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মন বরাদ্দের চাহিদা পত্র না দেখিয়ে বলেন, আমাদের তালিকার বাইরেও উপর থেকে বরাদ্দ এসেছে। অন্যান্য অভিযোগ গুলো তিনি সরাসরি এড়িয়ে গেছেন।

 

স্বপন কুমার বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। তার বিরুদ্ধে নাকনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিলের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন।
কেন্দ্র সংস্কারের নামে অপচয়ের বিষয়টি

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু সাংবাদিকদের বলেন, আনিত সকল অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখে সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ