সাতক্ষীরা ব্যুরো:
দেশে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম স্থলবন্দর ভোমরার সাথে যুক্ত হচ্ছে রেল সংযোগ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ জেলা সাতক্ষীরা।
এই জেলায় উৎপাদিত হয় বিখ্যাত জিআই পণ্য উৎপাদিত হিমসাগর আম, রপ্তানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি ও সুন্দরবনের মধু। এখানে অবস্থিত ভোমরা স্থলবন্দর ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেল যোগাযোগ বঞ্চিত সাতক্ষীরা জেলা সংযুক্ত হচ্ছে রেল যোগাযোগ। যশোরের নাভারণ থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার নির্মিত হবে রেল সড়ক। সয়েল টেস্ট ও স্টেশন নির্ধারণসহ রেলের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। এই খবরে খুশিতে ভাসছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়িসহ দক্ষিণ-পশ্চমাঞ্চলের সাধারণ মানুষ।
দর্শণা-জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১৮৬২ সালে বাংলাদেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয়। দীর্ঘ ১৬৪ বছর পর রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে সাতক্ষীরা।
যশোরের নাভারণ থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনে প্রাথমিক দুই হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। এর সিংহভাগ জাইকা থেকে ঋণ সহায়তা চেয়েছে সরকার। এই ৬৫ কিলোমিটার রেলপথে নাভারণ, কলারোয়া, মাধবকাঠি, সাতক্ষীরা ও ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত ৬টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে এই অঞ্চলে যাতায়াত, ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণ হবে সহজযোগ্য। অল্পখরচে স্বল্প সময়ের যাতায়াত করতে পারবে মানুষ। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করছেন শিক্ষার্থী আরিফ রহমান, মোমিন হোসেন ও শবনম লায়লা।
সাতক্ষীরার ব্যবসায়ি আনিসুর রহমান, মজিদ গাজী, আলিমুজ্জামান চৌধুরী জানান, নাভারণ-ভোমরা রেল লাইন চালু হয়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভ্রমণ বৃদ্ধিসহ ব্যবসায়-বাণিজ্যে গতি বাড়বে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। বাড়বে রাজস্ব আয়। এলাকার পরিবেশ হবে উন্নত।
সাতক্ষীরা ও নাভারণের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করলে তারা জানান, নাভারণ- ভোমরা স্থলবন্দর রেললাইন সংযুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এই অঞ্চলে বিনিয়োগ করবেন। দেশের অন্যান্য স্থল ও নৌ বন্দর থেকে কলকাতার সাথে ভোমরা স্থলবন্দরের দূরত্ব কম হওয়ায় এই রেল লাইন সুফল বয়ে আনবে।
বেনাপোল রেল স্টেশন শন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, ইতিমধ্যে কযেক দফায রেলের জায়গা নির্ধারন, সয়েল টেস্ট, ৬টি স্টেশনসহ রেল প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে আশা করেন তিনি।
নাভারণ ভায়া সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লাইন দ্রুতসময়ে বাস্তবায়নের দাবি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের।
উল্লেখ্য: দর্শণা-জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১৮৬২ সালে বাংলাদেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয়। পরে ১৮৮২-৮৪ সালের মধ্যে সেন্ট্রাল রেলওয়ে নামে পরিচিত বনগাঁ-যশোর-খুলনা ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হয়।
এসময় বেনাপোল-নাভারণে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। ১৯১৪ সালে ভাইসরয় অব বৃটিশ ইন্ডিয়া কলকাতা থেকে নাভারণ হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লিংক স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং সেটি অনুমোদনও হয়। ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময়েও রেলের জায়গা রেখে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। পর্যায়ক্রমে দেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিঃমিঃ রেল লাইন নির্মাণ করা হয়। রেল নেটওয়ার্কে দেশের ৪৪টি জেলা সংযুক্ত হয়।
এদিকে, দেশে পৃথক রেল মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। নতুন মন্ত্রণালয় ২০১০ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে আরো ১৫টি জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরমধ্যে ৭টি নতুন জেলায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শেষের পথে। মহাপরিকল্পনায় নাভারণ-সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ রেললাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে যশোর নাভারন ভায়া ভোমরা স্থলবন্দর রেল যোগাযোগ।

