কেশবপুর প্রতিনিধি:যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জমে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে এই দুই দলের প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয়ভাবে আভাস মিলেছে।
কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ২০ হাজার ৪০৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ১১ হাজার ৪৪১ ও নারী এক লাখ ৮ হাজার ৯৬৬ জন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে আছেন বিএনপির মো. আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জি এম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. মাহমুদ হাসান (ঈগল)।
দীর্ঘদিন এ আসনে ছিল আওয়ামী লীগের আধিপত্য। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাল্টে গেছে চিত্র। বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ ও একটি উপনির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতারা জয়ী হয়েছেন সাতবার। এ ছাড়া বিএনপি দুইবার, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টি একবার করে জিতেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন দুইবার।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে এই আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে সংসদীয় আসন যশোর-৬ গঠিত হলে বিজয়ী হন বিএনপির গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এরপর ১৯৮৮ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। ১৯৯১ সালে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদলে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে আবারও নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালেও তিনি জেতেন। ২০০৮ সালে সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব।
এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের সীমানায় (কেশবপুর) নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দুইবার জেতেন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২০ সালে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন খন্দকার আজিজুল ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রত্যেকটি ইউনিয়নের হাটবাজার থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারেরা বলছেন, এতদিন তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি। বিগত কয়েকটি নির্বাচন একতরফা হওয়ায় আগ্রহ ছিল না। এবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চান।
এবার জয়ী হওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেশবপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইশতেহার ঘোষণা করা না হলেও প্রচারপত্রে স্থানীয় সমস্যার ১১ দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। যারা হিংসা-হানাহানি করছে, জনগণ তাদের বর্জন করবে।’
জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ। তিনি নিজ দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি পদেও আছেন। এ আসনে বিএনপির প্রথম দলীয় মনোয়ন পান কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি শ্রাবণ। পরে তার পরিবর্তে আবুল হোসেন আজাদকে চুড়ান্ত মনোয়ন দেয়ায় দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে বিএনপির নেতা কর্মীরা। এই প্রতিকুল পরিস্থিতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছেন আজাদ। ভোটের মাঠে তাকে অনেক সরব দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে দলীয় অবস্থান যার যাই থাকুক জয় পরাজয় নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যংকের ওপর। যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোট বেশী টানতে পাবেন তারই জয় সুনিশ্চিত হবে।

