সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইল-১:বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে সুযোগ হারাতে পারে বিএনপি

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
আওয়ামী লীগ বিহীন ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনী মাঠে বিরাজমান ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সংঙ্গত কারনে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নড়াইলের দুটি আসনে প্রকট অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপে বিএনপির এবারের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারা নিয়েও ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন পর্যক্ষেকেরা। অপরদিকে, বিজয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী অগ্রসর হচ্ছে সুপরিকল্পীতভাবে।

এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ এবং গণসংযোগে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহর থেকে গ্রামে বিরামহীন ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটের পাল্লা ভারি করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল নড়াইল-১ (কালিয়া উপজেলা ও নড়াইলের অংশ বিশেষ) আসন। তবে ব্যাপক ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বিএনপি। জমামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী কোন দলের তেমন প্রভাব ছিলনা। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আসনটি বিএনপির দখলে যাওয়ার বেশি সম্ভাবনা থাকলেও গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে বিএনপির তিন বিদ্রোহী প্রার্থী।

 

এ আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ), জামায়াতের ওবাইদুল্লাহ কায়সার (দাড়ি পাল্লা), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বি, এম, নাগিব হোসেন (কলস), সুকেশ শাহ আনন্দ (ঘোড়া) ও এসএম সাজ্জাদ হোসেন (ফুটবল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মওলানা আব্দুল আজিজ (হাতপাখা), জাতীয় পাটির্র মোঃ মিল্টন মোল্যা (লাঙ্গল), সতন্ত্র উজ্বল শেখ (হরিণ) ভোটের মাঠে রয়েছেন। শেষ সময়ে ধানের শীষ, দাড়ি পাল্লা এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বি, এম, নাগিব হোসেনের কলস প্রতীকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিএনপি নেতারা বলছেন, সারাদেশে তাঁদের পক্ষে সৃষ্টি হওয়া গণজোয়ারে সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে। ধানের শীষ বিজয়ী হবে। আর জামায়াত নেতারা বলছেন, ভালোমন্দের বিবেচনায় ভোটররা তাঁদের কথা ভাবছেন। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারণে আওয়ামী ভোট ব্যাংক বড় ভ’মিকা রাখতে পারে।

 

বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ মেনে বিভেদ ভুলে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, গনমানুষের দল বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে। এ কারনেই এবারের পরিবর্তীত প্রেক্ষাপটে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সারাদেশের ন্যায় নড়াইল-১ আসনেও ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিগত ৩০বছর সুখে-দুখে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর পাশে থেকেছি, তারা আমাকে বিপুুল ভোটে জয়ী করবে বলে মনে করি। বিগত দিনে এঅঞ্চলের কোন উন্নয়ন হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত, নদী ভাঙ্গন রোধসহ অবহেলিত এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবো।

 

এদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরিণ কোন্দলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী নিয়ে ধানের শীষের বিপরীতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কয়েক ধাপে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনসহ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করে দলের তরফে এসব কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। মাদক নির্মূল, সাম্প্রদায়িক সস্প্রীতি রক্ষাসহ এলাকার উন্নয়নে কাজ কারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের নারী ইউনিট অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

 

এ আসনে জয়ের ব্যাপারে আত্নবিশ্বাসী জামায়াতের প্রার্থী মোঃ ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, আমি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে গ্রামেগঞ্জে, পাড়ামহল্লায় সর্বত্র সাধারণ মানুষের মাঝে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া দেখতে পেয়েছি। বিগত দিনে সাধারণ মানুষ জিম্মি দশার মধ্যে ছিলো অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, এবারের মুক্ত পরিবেশে ভালোমন্দ বিচার বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ভোটারদের মন ও মননে জামায়াতে ইসলাম জায়গা করে নিয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ আগামী ১২ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়ে মানুষ তাঁদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

নড়াইল সদর উপজেলার ৫টি ও কালিয়া উপজেলাধীন ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইল-১ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ২লক্ষ ৯৪ হাজার ৪৬জন। এরমধ্যে ১লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৫৭জন পুরুষ, ১লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৮৭জন নারী ও ২জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। ভোটাররা কাকে বিজয়ীর মালা পরাবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ