বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রায় বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

আরো খবর

সাব্বির হোসেন:অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের রোগী। চিকিৎসকদের মতে, আগে যেখানে উচ্চ রক্তচাপ মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে বর্তমানে অল্প বয়সীরাও এ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

যশোরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে ফাস্টফুড গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ সেবন, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবকে এই রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এ রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এ বিষয়ে  মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন,“নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি বছরে অন্তত দুইবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।”

এদিকে **বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)**–এর প্রকাশিত *গ্লোবাল হাইপারটেনশন রিপোর্ট* অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় **১৪০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত**। তবে এদের মধ্যে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন নিয়মিত চিকিৎসা ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এটিকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

WHO–এর তথ্যমতে, উচ্চ রক্তচাপ এখন বিশ্বব্যাপী **হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ**। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জানেন না, ফলে তারা চিকিৎসার আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে **ওজন স্বাভাবিক রাখা ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় ফাস্টফুড ও রাস্তার দোকানের অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার পরিহারের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় **শাকসবজি ও ফলমূল** অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব খাবারে থাকা প্রাকৃতিক পটাশিয়াম ও ফাইবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রিপোর্টে **মদ্যপান পরিহার**, অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয় ও ক্যাফেইনজাত পানীয় গ্রহণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে **অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ**কে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘লবণ ভেজে খেলে ক্ষতি নেই’—এমন ধারণাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

WHO–এর গবেষণায় আরও দেখা গেছে, **অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও একটানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার কম ঘুম** উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মানসিক প্রশান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুম সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক গবেষণালব্ধ নির্দেশনা অনুসরণ করে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ—দুটিই সম্ভব। তথ্য সূত্র:বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আরো পড়ুন

সর্বশেষ