যশোরের লাভলু হোসেন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে এই হত্যা কান্ডে প্রকৃত ঘটনা স্বীকারুক্তি ও আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। নিহত লাভলু হোসেন এর ছেলে সাকিল হোসেন (১৬) ও তার স্ত্রী সালমাকে ডিবি পুলিশের টিম নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। একপর্যায়ে সে তার পিতার লাভলু হোসেন এর হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা (গোপন) করার কথা স্বীকার করে হত্যাকান্ডে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে এবং সে হত্যার সময় ও লাশ গুম করার ঘটনাস্থলে হত্যাকারীদের সথে উপস্থিত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে হত্যার কারনসহ বিস্তারিত বিবরন দেয় সাকিল।
তার স্বীকারোক্তি মতে তার বাড়ীর দক্ষিন পার্শ্বে জনৈক সদু পাগলের পুকুর থেকে ১ টি বিদেশী পিস্তল ২ রাউন্ড গুলি ভর্তি অবস্থায় উদ্ধার করে ডিবি। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামী কামরুজ্জামান খোড়া কামরুলকে ধরতে অভিযান চালায়। খোড়া কামরুলের সহযোগী ইসরাইল নামের এক যুবককে আটক করে তার স্বীকার অনুযায়ী আরও ১টি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। পরে হত্যার ঘটনাস্থল খোড়া কামরুলের বসতবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে খোড়া কামরুল ও তার স্ত্রী পলাতক থাকায় যে কক্ষে লাভলুকে হত্যা করা হয়েছে সে কক্ষের তালা খোলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাকিলের তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়। নিহত লাভলু এর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদেও এক পর্যায়ে হত্যার কারন উদঘাটন করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ আরো জানায়, কামরুজ্জান খোড়া কামরুল তার সহযোগীদের মাধ্যমে ১/২ মাস আগে স্বর্ণ চোরা কারবারীদের নিকট থেকে অনুমান ৬/৭ কেজি স্বর্ণ ছিনতাই করে। খোড়া কামরুলে একান্ত সহযোগী লাভলুর ছেলে সাকিল ও স্বর্নকার কবীর হাওলাদের মাধ্যমে স্বর্ণেও বার বিক্রি করে লাভলুসহ একত্রিত হয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ভাগবটোয়ারা করে বলে জানা যায়, তারই ধারাবাহিকতায় ঐ দিন বৃহঃ বার রাতে খোড়া কামরুল ও কবীরের ডাকে কামরুলে বাড়ীতে লাভলু ও তার ছেলে সাকিল উপস্থিত হয়।
সাকিল ঘরের বাইরে মোবাইলে গেমস খেলতে থাকে, পরিকল্পনা মোতাবেক খোড়া কামরুল, কবীর ও রফিকুল পরস্পর যোগসাজসে লাভলু নিয়ে ঘরে থাকে। রাত অনুমান ১২.০০ টার সময় হঠাৎ একটি গুলির আওয়াজ হয়। সাকিল ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে দেখে তার পিতা লাভলু উলঙ্গ চিত হয়ে মেঝেতে পরে আছে। বুক ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।
সে সময় খোড়া কামরুল, তার স্ত্রী, বোন সঙ্গীয় কবীর ও রফিকুল সাকিলকে শান্তনা দেয় লাভলুর বুকে গুলি লাগছে এবং মরে গেছে। সাকিলকে অর্থ ও জীবন জীবিকার লোভ দেখিয়ে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহ করার জন্য খোড়া কামরুলের স্ত্রী ও বোন মুখে ছেড়া লুঙ্গী গুজে দেয় এবং কামরুলের নির্দেশে কবীর ও রফিকুল মটরসাইকেল যোগে বেলতলা আমবাগানের মধ্যে লাভলুর লাশ গুম করে এবং সাকিলকে অস্ত্রগুলি দিয়ে গোপন করতে বলে।
ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশী পিস্তল ২ রাউন্ড গুলি ২টি পিস্তলের ম্যাগজিন এবং সাকিলের ব্যবহারিত মোবাইল উদ্ধার ও ২জন আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য গত ১০ তারিখ লাভলুর মরাদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা হলে ঘটনার অনুসন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত পৃথক ২ টি অস্ত্রগুলি সংক্রান্তে এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম বাদী হয়ে পৃথক এজাহার দায়ের করেন। এবং নিহত লাভলু হোসেন এর পিতা আঃ মান্নান বাদী হয়ে হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন।
গ্রেফতার কৃত আসামীদের মধ্যে লাভলু হোসেন ছেলে সাকিল, আপরজন ইসরাইল হোসেন যশোর জেলার কোতয়ালী থাানার খোলাডাঙ্গার আ: রশিদের ছেলে।

