ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:
শিকার নিষিদ্ধ ১০ মণ শাপলা পাতা মাছসহ ২২ জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। সুন্দরবনের গভীর থেকে এসময় মাছ শিকারের সরঞ্জামসহ ২টি ট্রলার জব্দ করা হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এই জেলেদের আটক করে লোকালয়ে ফেরে বন বিভাগের সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃত জেলেরা জেলেরা হলেন, পটুয়াখালী জেলার মহিপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের জামাল হওলাদার (৩২), মোঃ কালু (৪৮), ফরহাদ (৩০), মোঃ ইয়াছিন খান (৪০), দুলাল গাজী (৩০), মোঃ হানিফ হাওলাদার (৪০), রাজীব হাওলাদার, ইব্রাহিম, মহিপুর গ্রামের মোঃ ছোমেদ (৪৫), চাপলি গ্রামে মোঃ রাসেল (৩০), তালতলী উপজেলার র তালতলী গ্রামের ইসমাইল, পটুয়াখালী সদরের দক্ষিণ বড়বিঘা গ্রামের মোঃ শরিফ মিয়া ও বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের মোঃ শফিকুল খানহহ (২০) ২২ জন।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ আহরণকালে তাদের আটক করা হয়। এ সময় দুটি ট্রলার থেকে দড়িবড়শি, বরফের বক্সসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জব্দকৃত ট্রলার ও সরঞ্জাম বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আটক ২২ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জব্দকৃত মাছ মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হবে।
স্থানীয় বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অবৈধ আহরণ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, আটক জেলেরা দাবি করেছেন, কুয়াশার কারণে পথ ভুলে তারা মান্দারবাড়িয়া এলাকার কাছাকাছি চলে এলে বন বিভাগের টহল দল তাদের আটক করে।
উল্লেখ্য: বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। আইন অমান্য করে বন থেকে সম্পদ আহরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

