বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প সাতক্ষীরায়,উৎপত্তিস্থল আশাশুনি

আরো খবর

সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল আশাশুনি, অসংখ্য দেয়ালে ফাটল, ধ্বসে পড়েছে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি

সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার দুপুরে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে,যার উৎপত্তিস্থল জেলার আশাশুনি উপজেলায়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে ভূমিকম্পনের মাঝারি মাত্রা থাকায় ঝাকুনিও ছিল বেশ। কয়েক সেকেন্ডের এ ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে জেলাবাসি।

সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পরযবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিকটার স্কেলে যার মাত্রা ৫.৪। আর এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়, যেটি খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

সাতক্ষীরার কাটিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার জানান, তিনি তখন ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার মনে হচ্ছিল, তিনি ডানদিকে একবার তারপর বাম দিকে ঢলে পড়ছেন। আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আশপাশের কিশোর-কিশোরীসহ সর্বস্তরের মানুষের চিৎকার শুনেছেন তিনি।

একই এলাকার বাসিন্দা জাহারুল ইসলাম টুটুল জানান, তিনি মসজিদে জুমআর নামাজ পড়ছিলেন। দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করলে তারা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন।

তবে এখন পরযন্ত জেলায় কোন প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশান ঘাটের পাচিল, তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি, অর্ধশতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটলসহ ছোটছোট ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার জানান, মাঠ পরযায় থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

 সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি সাদনান রহমান সিয়াম জানান,স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সাতক্ষীরায়। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আকস্মিক এই ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে পুরো জেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয়। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় তখন অনেক মানুষ মসজিদে ছিলেন। তীব্র কম্পন অনুভূত হতেই মুসল্লিদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে মসজিদ ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। শহরের বহুতল ভবনগুলো থেকে বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তায় নেমে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফেকার আলী রিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়ন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এর আগে সাতক্ষীরায় এত শক্তিশালী ঝাঁকুনি তারা কখনো অনুভব করেননি। উৎপত্তিস্থল জেলার ভেতরে হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি, যেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ