কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরের নতুন মূলগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার কর্মচারী নিয়োগের নামে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) অতি গোপনে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ল্যাব গবেষণাগার পদে নিয়োগ দেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃাষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন মহল।
এলাকাবাসি জানায়, ১৯৯২ সালে উপজেলার নতুন মূল গ্রামে ৯১ শতক জমির উপর নতুন মূলগ্রাম দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসাটি স্থপিত হয়। আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ল্যাব গবেষণাগার পদে শূন্য থাকলেও এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
মাদ্রাসাটির সভাপতি ও সুপার আব্দুস সাত্তার যোগসাজসে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ওই তিন শূন্য পদে নিয়োগে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে আয়া পদে নিয়োগ পেতে ৪জন, পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে নিয়োাগ পেতে ৪জন, ল্যাব গবেষণাগার পদে ৪ জন আবেদন করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বরাবর। এরপর মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত হন মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার।
আবেদনকারীদের মধ্যে আয়া পদে খাদিজা খাতুনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা, পরিছন্ন কর্মী পদে শামীমা খাতুনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ও ল্যাব গবেষণাগার আবু তাহেরের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সাত্তার। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বাকি আবেদনকারীদের পাশ কাটিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলামের বাড়িতে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে তাদের নিয়োগ দেন। এ ঘটনা এলাকায় রটে গেলে অভিভাবকসহ ওই এলাকার সচেতন মহল কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
ওই গ্রামের ইসহাক আলী বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনে এ মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে খাদিজা খাতুনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে আয়া পদে, শামীমা খাতুনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে পরিছন্ন কর্মী পদে ও আবু তাহেরের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়ে ল্যাব গবেষণাগার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ওই নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নতুন মূলগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, অবৈধ ভাবে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়োাগ বোর্ড বসিয়ে মোটা অংকের অর্থেও বিনিময়ে আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ল্যাব গবেষণাগার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।। তিনি ওই নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েন।
অর্থ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সাত্তার বলেন, আয়া পদে নিয়োগ পেতে খাদিজা খাতুন, ফারজানা খাতুন, নুসরাত জাহান, সালেহা খাতুন, পরিচ্ছন্ন কর্মী পদে নিয়োগ পেতে শামীমা খাতুন, সাবিয়া আফরিন, শান্তা খাতুন, মরিয়াম খাতুন, ল্যাব গবেষণাগার পদে আবু তাহের, ইউসুফ আলী, ইয়াকুব আলী ও মেহেদী হোসেন আবেদন করেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দিন আলা বলেন, বিধি মোতাবেক গত ৭ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে নিয়োগ কাজ সমপন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে বিধি মোতাবেক আয়া, পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ল্যাব গবেষণাগার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

