শফিকুল ইসলাম, তালা, (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার তালায় পারভেজ নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে ২ শিশুকে যৌনহয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে তালা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামে এই ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। মামলার আসামি পারভেজ উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের আক্তারুল বিশ্বাসের ছেলে।
জানাযায়, কিছুদিন ধরে প্রতিবেশী রফিকুল বিশ্বাসের শিশু কন্যা তাবাসসুম ( ৬) ও সফিকুলের শিশু কন্যা লামিয়া (৫) কে প্রতিবেশি আক্তারুল বিশ্বাসের ছেলে পারভেজ বিশ্বাস(১৫) বিভিন্ন সময়ে মন ভুলানো কথা বলে বাড়ির ছাদে নিয়ে যৌনাঙ্গে হাত দেয়াসহ পায়ুপথে যৌনাচার করে আসছে। এই ঘটনায় শিশু ২ টির পরিবারের লোকজন প্রতিবাদ করলে পারভেজের পিতাসহ পরিবারের লোকজন তাদের উপর চড়াও হয়ে হামলা ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।
সফিকুলের স্ত্রী লামিয়ার মা জানান, ১ সপ্তাহ আগে আমার মেয়ের পায়ুপথে যৌনাচার করার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সে ভয়ে কিছু বলেনি। আজ তাবাসসুমের সাথে একই ঘটনার কথা জানাজানি হলে সে আজ আমার সাথে সব কথা বলেছে।
রফিকুল বিশ্বাসের স্ত্রী জানান, আজ আমার মেয়ে তাবাসসুমকে ফুসলিয়ে ছাদের উপর নিয়ে গোপাঙ্গনে হাত দেয়াসহ ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় মেয়ে কেঁদে উঠলে কোলে করে বাইরে ঘোরাতে নিয়ে যায়। ঘটনা শোনার পরে আমরা জিজ্ঞেস করতে গেলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়িতে হামলা করে ঘরে রাখা ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যায়।
সফিকুল বিশ্বাস বলেন, আমি হাজরাকাটি বাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করি। খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার বাড়িতে আক্তারুল বিশ্বাসসহ তার লোকজন হামলা করে ঘরে রাখা ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে। সাথে সাথে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় থানায় এসে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রতিবেশী রিপন বিশ্বাস বলেন, আক্তারুলের ছেলে পারভেজের স্বভাব খুবই খারাপ। কিছু দিন আগে আমার মেবাইল চুরি করছিলো। ওর পিতা ছেলেকে প্রশ্রয় দেয় সে কারণে ছেলেটা খারাপ হয়ে গেছে।
আক্তারুল বিশ্বাস বলেন, এসব ঘটনা আমি কিছু শুনিনি। আজ এরা বাড়িতে গেলে জানতে পারি। আমার ছেলে সব ঘটনা মিথ্যা বলে জানিয়েছে। আমি কোনো টাকা নেয়নি বরং ওরা আমার বাড়ি ভাংচুর করে টাকা নিয়ে গেছে।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ তদন্ত করে সত্য প্রমানিত হয়েছে। যার ফলে তালা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

