বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিকরগাছায় পল্লী বিদ্যুত সমিতির গ্রাহকদের বিল তৈরি নিয়ে  কারসাজির অভিযোগ

আরো খবর

আলমগীর হোসেন আলম, ঝিকরগাছা : যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের মিটার রিডিংয়ে গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে মিটার না দেখেই অফিসে কিংবা বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করছেন মিটার রিডাররা। এতে কখনো প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে, আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একসাথে যোগ করে স্লাব বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

 

তথ্য অনুসন্ধান জানা যায়, উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সন্তোষনগর গ্রামের মৃত আ. সামদের দুই ছেলের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ এর ২টা মিটার রয়েছে। যার মধ্যে রাহাজ্জান আলীর (হিসাব নং ১০১০০২৫৫৭২২২৫)। ২১ জানুয়ারী থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১ মাসে তার মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে হয়েছে ২৩৭৫৫-২৪০০০=২৪৫ইউনিট। কিন্তু তার মিটারে রিডিং আছে ২৩৯০৩ ইউনিট। অন্যদিকে সাজ্জাদুল আলম (হিসাব নং ১০১০০২৫৫৭২২৪১) একই মাসে তারও মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে হয়েছে ৩,৪৫০-৩৫৬০= ১১০ইউনিট। কিন্তু তার মিটারে রিডিং আছে ৩৪৮৬.৬ ইউনিট। তাহলে মিটার রিডার বিপ্লব ১৪ দিন পূর্বে লিখা বিলে এখনো পর্যন্ত ৭৩.৪ বেশি থাকে। যে এমন ভৌতিক বিল কি ভাবে লিখলো ? এটা নিয়ে জনমতে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

গ্রাহক সাজ্জাদুল আলম বলেন, “মিটার না দেখেই কিভাবে এই ইউনিট লেখা হলো? আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো কম ইউনিট লিখে পরে একবারে যোগ করে দেওয়া হয়। এতে করে ৭৫ ইউনিট পার হলে প্রতি স্লাবে প্রায় ২-৩ টাকা হারে বেশি দিতে হয়। আমরা এর প্রতিকার চাই।”
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।

 

তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে মিটার রিডিংয়ের এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করুক এবং সঠিকভাবে মিটার দেখে বিল প্রস্তুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক।

 

অভিযুক্ত মিটার রিডার বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি মিটার ঘোলা থাকায় ঠিকমত দেখতে পারিনী আর একটাই ভূল বশত লেখা হয়েছে। পরর্বীতে আমি ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ঝিকরগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. গোলাম কাদির বলেন, “বিষয়টি আমাদের আগে জানা ছিল না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ