বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নড়াইলে ঈদ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল:
ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে নড়াইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই। রবিবার (২২ মার্চ) বিকালে সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে এ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

বিছালী ও কালিনগর গ্রামের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক। বিছালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি কাজী হাসরাত এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য কামরুল বিশ্বাস, বিছালী ক্যাম্পের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

ষাঁড়ের লড়াইকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী এ ষাঁড়ের লড়াই দেখতে আসেন। এ লড়াইয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৬ টি ষাঁড় অংশ নেয়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষাঁড়ের লড়াই খেতে সকাল থেকে ওই এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই কালিনগর মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাঠ ঘিরে চারিপাশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুধু মাঠেই নয়, রাস্তায় পাশে থাকা গাছে উঠে ষাঁড়ের লড়াই উপভোগ করেন উৎসুক দর্শনার্থীরা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ষাঁড়ের লড়াইকে ঘিরে অনুষ্ঠিত মেলায় বসে নানা পণ্যের দোকান। চানাচুর, পাপর, মিষ্টি, স্থানীয় হরেক রকম খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, হস্তশিল্প সহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকেরাও লড়াই দেখতে ভিড় করেছেন।

 

কলোড়া গ্রাম থেকে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে মাঠে এসেছেন ষাটোর্ধ মকবুল মিয়া। তিনি বলেন, ষাঁড়ের লড়াই দেখতে ভালোই লাগে। ঈদের ছুটিতে ছেলে ও ছেলেবৌ বাড়িতে এসেছেন। ঈদের পরের দিন কালিনগর মাঠে ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করায় নাতিকে নিয়ে লড়াই দেখার সুযোগ হয়েছে। নাতিটাকে এই লড়াই দেখাতে পেরে আনন্দটা বেশি অনুভব করছি। দর্শনার্থীদের মতে, ষাঁড়ের লড়াই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই, এ ধরনের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহবান জানান তারা। চাকই মধুরগাতি থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী মাজারুল হোসেন বলেন, অনেক দিন পর ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ায় গ্রামটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছে। যশোর, নওয়াপাড়া, খুলনা থেকে এখানে ষাঁড়ের লড়াই দেখতে অনেক লোক এসেছেন। আবহাওয়া ভাল হতো এবং আকাশ মেঘলা না হলে দর্শকদের ভিড় আরো বাড়তো।

 

আয়োজক কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে তুলতে এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে দুই গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ষাঁড়ের লড়াইয়ের এ আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে শহর থেকে অনেকে গ্রামের বাড়ি এসেছেন তাঁদরে পরিবার নিয়ে। পরিবার পরিজন নিয়ে একটু বিনোদনের জন্য দুই গ্রাম মিলিত হয়ে আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যহত রাখার চেষ্টা থাকবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ