শ্যামল দত্ত, চৌগাছা(যশোর):ঈদের ছুটিতেও মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি চৌগাছা উপজেলা-তে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে ছুটির পুরো সময়জুড়ে বিশেষ সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয় এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা পরিবারগুলো এ সেবা পেয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশের সরকারি, আর্থিক ও সেবামূলক অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ছুটির মধ্যে পড়লেও মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশনার আলোকে ঈদের ছুটিকালীন সময় সোমবার (১৭ মার্চ) থেকে সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত টানা ৭ দিন যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীন চৌগাছা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ নারায়ণপুর, সুখপুকুরিয়া, স্বরূপদাহ, হাকিমপুর, পাতিবিলা, জগদীশপুর, ফুলসারা, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, সিংহঝুলী ও চৌগাছা সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন সেবা ও পরামর্শ, প্রসবকালীন সেবা, প্রসবোত্তর সেবা, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণ, কিশোর-কিশোরীদের কাউন্সেলিংসহ সাধারণ রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়। উপজেলা সদর কেন্দ্রেই কয়েকজন গর্ভবতী মা গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা পেয়েছেন। একই সঙ্গে আইইউডি সেবাও প্রদান করা হয়েছে এবং সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফুলসারা, নারায়ণপুর ও স্বরূপদাহ ইউনিয়নে খাবার বড়ি, ইনজেকশন, কনডমসহ পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের সেবা, কিশোর-কিশোরীদের কাউন্সেলিং এবং সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বিষয়ে পরামর্শ এবং প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবাও প্রদান করা হয়েছে।
পাতিবিলা, জগদীশপুর, সুখপুকুরিয়া, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, সিংহঝুলী ও হাকিমপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতেও একইভাবে গর্ভবতী মায়েদের সেবা, শিশুদের চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী বিতরণ এবং কিশোর-কিশোরীদের কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালু ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিথুনুর রহমান বলেন, ঈদ-উল-ফিতরের দীর্ঘ ছুটির কারণে পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতাধীন অনেক পরিবার সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাপরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটির দিনগুলোতেও বিশেষ সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করায় ছুটির মধ্যেও সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

