বুধবার, ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নৃশংস গণহত্যার সেই কালরাত আজ

আরো খবর

একাত্তর ডেস্ক:পঞ্জিকার পাতায় মার্চের ২৫ তারিখ, সাল ১৯৭১। সেদিন রাতের আঁধার সাক্ষী হয়েছিল নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞের। নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

এই হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে। সিদ্ধান্ত হয়, সামরিক এই অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন রাও ফরমান আলী ও খাদিম রাজা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১০টার দিকে ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি বড় কনভয় যুদ্ধ সাজে শহরের দিকে রওনা হয়।

তারা প্রথম বাধার মুখে পড়ে ফার্মগেট এলাকায়। সাধারণ মানুষ সড়কে গাছের গুঁড়ি, ভাঙা গাড়ি ও স্টিম রোলার ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেয়।

কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী সেই রাতে হয়ে উঠল মৃত্যুদূত। তারা হামলা করে পিলখানা ইপিআর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাঁখারী বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, এবং বস্তিবাসীর ওপর নজিরবিহীন নৃশংসতা চালানো হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে রাতের অন্ধকারে গুলি, বোমা আর ট্যাংকের আওয়াজে নরকে পরিণত হয় গোটা শহর।

রাত ১টার পর পাকিস্তানের সেনারা ট্যাংক আর সাঁজোয়া যান নিয়ে ধানমণ্ডির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

এরপর শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে বাঙালি পুলিশ, আনসার ও সাধারণ মানুষের এক অসম লড়াই। মুক্তির জন্য এই যুদ্ধে জাতির অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের করা প্রতিবেদনে বলা হয়, “আল্লাহর নামে আর অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সন্ত্রস্ত নগর।

“পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর ও ঠাণ্ডামাথায় গোলাবর্ষণের ২৪ ঘণ্টা পর, অন্তত ৭ হাজার মানুষ মৃত, বিশাল এলাকা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রামকে নৃশংসভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

একাত্তরে ভয়াবহ সেই নৃশংসতায় শহীদদের স্মরণে ২০১৭ সাল থেকে কালরাতকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ।

সূত্র: বিডিনিউজ

 

 

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ