একাত্তর প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি-২০২১ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে পুস্পস্তবক অর্পণ, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ¦ালন, প্রভাতফেরি, যশোর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ভাষা শহিদদের আতœার মাগফিরাত কামনায় দোয়াসহ নানা কর্মসূচিতে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। সকাল সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে বিশ^বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ভবন থেকে প্রভাতফেরি বের করেন ও প্রভাতফেরিটি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। বাদ জোহর বিশ^বিদ্যালয় সংলগ্ন মাদ্ররাসার মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অমর একুশের কর্মসূচিতে ‘বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন’ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিল ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন। তাই এ দিনটি বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পূর্ব বাংলার জনগণের বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে তাদের নেতৃত্ব শূন্য এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যেই পাকিস্তানি শাষক গোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার ষড়যন্ত্র করে। ভাষা আন্দোলনকেই মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা হিসেবে ধরা হয় এবং ভাষা আন্দোলন না হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হতো না। সকল ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন, ড.ইঞ্জ., বলেন পাকিস্তানি মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬% লোক বাংলা এবং মাত্র ৭% লোক উর্দু ভাষায় কথা বলে সেখানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অর্থই বাঙালিকে দমিয়ে রাখা এবং শোষণ করার এক মহা ষড়যন্ত্র। এই ভাষা আন্দোলনের সময় আমাদের বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন কারাগারে ছিলেন। এই সময় ফরিদপুর জেলায় ১৬ই ফেব্রুয়ারি সকল রাজবন্দীদের মুক্তিসহ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অনশন শুরু করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে সাথে সাথেই ঢাকা আওয়ামী মুসলিম লীগ এর অফিসে তার এক বার্তায় ২১ ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অসমাপ্ত ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন। তবে সেখান থেকেই তিনি এ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় এসে ১৯৭৩ সালে ভাষা শহিদদের পরিবারবর্গকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন। ভাষা শহিদ ও ভাষা সৈনিকদের তত্ত্ব তালাশ নেওয়ার ভাষা আন্দোলনে ভাষা সংগ্রামীদের অবদানের ঐতিহাসিক কাহিনীগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মতরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্যগুলি বাস্তবায়নে ভাষা সংগ্রামীদের সম্মানীত করা দরকার। সকল ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান।

